২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের এক সপ্তাহ পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। গতকাল বুধবার দুপুুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাজেট-প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট সরকারের আর্থিক দুর্নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার ঘোষণা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়ন ছাড়া এ বাজেটে কিছু নেই। উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে সরকার। সাধারণ মানুষের জন্য বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।’
তিনি বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশে এবার সরকার স্মার্ট লুটপাটের বাজেট দিয়েছে। তারা ভোটচুরি, ব্যাংক ডাকাতি এবং অর্থ পাচারে স্মার্ট। প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার-সমর্থক লুটপাটকারী ও টাকা পাচারকারী সিন্ডিকেটকে জনগণের সম্পদ লুটের পাকা বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছে। অথচ বাজেটে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কঠোর নির্দেশনা থাকার কথা ছিল।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সারা দেশে অসহনীয় লোডশেডিংয়ের জন্য সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাট দায়ী। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে শুরু করে আদানি পর্যন্ত পুরোটাই লুটপাটের। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ খাতকেই মাত্রাহীন দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেয় সরকার। বিদ্যুৎকে পুরোপুরি প্রাইভেট সেক্টরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে আজ এ সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে অস্বাভাবিক মুনাফা বাড়ানো ছাড়া কোনো কাজ নেই। লুটপাটের যে গ্রুপগুলো তৈরি করা হয়েছে, তারা সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ। এ চাপ মোকাবিলায় বাজেটে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। দেশের এ সংকটের সময়ে প্রয়োজন ছিল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি সাহসী ও বাস্তবসম্মত বাজেট। এ বাজেট আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের ১৪-১৫ শতাংশ বর্ধন ছাড়া কিছুই নয়। অথচ আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তির কথা উল্লেখই করেননি অর্থমন্ত্রী। আইএমএফের শর্তপূরণে বাড়তি আদায় করতে হবে ৪৮ হাজার কোটি টাকা।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের অনুকূলে এ বাজেট কোনো ভূমিকা রাখবে না। এ বাজেট গণবিরোধী বাজেট। গত এক দশকে গোষ্ঠীস্বার্থে পলিসি করা হয়েছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা করা হয়েছে; রাজস্ব ও আর্থিক খাতসহ অন্যান্য জরুরি খাতে বড় কোনো সংস্কার করা হয়নি। বাজেটেও সংস্কারের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত নেই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট দেশের প্রধান সংকটে পরিণত হয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার না থাকলে সরকারের জবাবদিহি থাকে না। দেশের অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। এ সংকট থেকে মুক্তি পেতে জবাবদিহিমূলক ও দায়বদ্ধতার নির্বাচিত সরকার দরকার। এর একমাত্র পথ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে চারদিকে শুধু হাহাকার। তবে এ হাহাকার সরকারের লোকজনের জন্য নয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তারা দেদার অর্থ লোপাট করে ব্যাংকগুলোকে ফোকলা করে দিয়েছে। আর গরিব আরও গরিব হচ্ছে। মানুষ সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। বেকার বাড়ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে গরিবের জন্য কিছু নেই।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের দাম দিয়ে যাচ্ছে, সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে? সরকার কেন কয়লা, তেল কেনার জন্য এলসি খুলতে পারছে না। জনগণ জানে তাদের টাকা কারা বিদেশে পাচার করছে। কারা সুইস ব্যাংকে টাকা রাখছে, কানাডায় বেগমপাড়া বানাচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ।
