ক্ষমতা  হারানোর ভয়ে আওয়ামী লীগ আতঙ্কে ভুগছে: গণতন্ত্র মঞ্চ

আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ০৬:৩২ পিএম

গণতন্ত্র মঞ্চের সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আতঙ্কে ভুগছে। দিন দিন তারা বেসামাল হয়ে পড়ছে। গণতান্ত্রিক ধারার রাজনৈতিক দল থেকে তারা এখন নিপীড়নমূলক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে।

তারা বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চের ঢাকা-দিনাজপুর রোডমার্চে বিভিন্ন জেলায় তারা যেভাবে হামলা চালিয়েছে, শান্তি সমাবেশের নামে উসকানি সৃষ্টি করেছে তা কেবল তাদের স্বৈরতান্ত্রিক গণবিরোধী চরিত্রকেই তুলে ধরেছে।

আজ রোববার সকালে তোপখানা রোডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন থেকে রোড মার্চে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে এবং অসহনীয় লোডশেডিং, বিদুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১২ জুন সোমবার ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করবে গণতন্ত্র মঞ্চ। এদিন বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ জুন বেলা ১১টায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করবেন মঞ্চের নেতা-কর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল - জেএসডি'র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামালউদ্দিন পাটোয়ারী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক বলেন, রোড মার্চ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হলেও সরকার ও সরকারি দল অধিকাংশ ক্ষেত্রে উসকানিমূলক পাল্টা ভূমিকা গ্রহণ করেছে। টাঙ্গাইল আমাদের সমাবেশ স্থলে আওয়ামী লীগ কথিত শান্তি সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। যে হোটেলে দুপুরে আমাদের খাবার ব্যবস্থা ছিল তাদের হুমকি দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা ভন্ডুল করে দিয়েছিল। সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মাজারে আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়েও ছাত্রলীগ মাস্তানী করার চেষ্টা করেছিল।

তিনি বলেন, বগুড়ার মোকামতলার সমাবেশস্থলে আওয়ামী লীগ পালটা শান্তি সমাবেশ ঘোষণা করলে সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করা হয়। মোকামতলার এই সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় রাতযাপনের জন্য বগুড়া শহরে ফেরার সময় রোডমার্চের গাড়িবহরে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা হামলা করে।রাতে বগুড়ায় আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে আমজাদিয়া মোটেলে অবস্থানরত গণতন্ত্র মঞ্চের সংগঠকদের উপর সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা আবার হামলা করে।

তিনি আরও জানান, গোবিন্দগঞ্জ শহীদ মিনারে আমাদের পূর্বনির্ধারিত স্থানে সমাবেশ করতে না দিয়ে বিস্ময়করভাবে শহর থেকে ৬/৭ কিলোমিটার দূরে বিলের ধানক্ষেতে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। আমরা ওখানেই সমাবেশ করি।

রংপুরে প্রেসক্লাবের সামনে রোড মার্চের সমাপনী সমাবেশের মঞ্চ ভেংগে দেয় পুলিশ এবং সমাবেশ ঘিরে নানা উত্তেজনা তৈরি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত