ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে হঠাৎ অশান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপডেট : ১২ জুন ২০২৩, ০২:৪৮ এএম

হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর। ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার জেরে চলছে হামলা, নেতাদের বাড়ি ভাঙচুর ও গোলাগুলি। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন শহরের সাধারণ মানুষ। ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে কাক্সিক্ষত পদ না পাওয়ারা বলছেন, মাঠের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না করে নতুন কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিকে। তাই ‘পদবঞ্চিত’ নেতাকর্মীরা বাধ্য হয়ে আন্দোলন শুরু করেছে। তবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কোনো কোনো নেতার দাবি, আন্দোলনরতরা দলের বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মী।

জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফুজায়েল চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং মহসিন হৃদয়কে সদস্য সচিব করে জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এরই মধ্যে গত ৮ জুন রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাহীনুর রহমানকে আহ্বায়ক, সমীর চক্রবর্তীকে সদস্য সচিব এবং পাঁচজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে জেলা ছাত্রদলের সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর ওইদিন রাত থেকেই শহরের কান্দিপাড়া, টিএ রোড, শিমরাইলকান্দি, কালীবাড়ী মোড় ও পাওয়ার হাউজ রোড এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মী ও ‘পদবঞ্চিতরা’ অভিযোগ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রহমান সানীর বড় ভাই কবির আহমেদ ভূঞা নিজের লোকদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেছেন। গত শুক্রবার সকালে জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও কবীর আহমেদ ভূঞার অন্যতম সহযোগী আবু শামীম মো. আরিফ ওরফে ভিপি শামীমের কান্দিপাড়ার বাসায় যান। তখন জেলা ছাত্রদলের বিদায়ী কমিটির আহ্বায়ক ফুজায়েল চৌধুরী, সদস্য সচিব মহসিন হৃদয় ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে ‘পদবঞ্চিত’ নেতাকর্মীরা ভিপি শামীমের বাড়িতে দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা শহরের টিএ রোড ও পাওয়ার হাউজ রোডে বিক্ষোভ মিছিল করে ‘পদবঞ্চিত’ নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে তারা কান্দিপাড়ায় জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির আহ্বায়ক শাহীনুর রহমান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক আবু শামীম মো. আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় ভাঙচুর করা হয় ঘরের দরজা-জানালা, গেট ও একটি মোটরসাইকেল। হামলা-ভাঙচুরের সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর গত শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শহরের কান্দিপাড়া বড় মাদ্রাসার পেছনে কৃষক দলের আহ্বায়ক আবু শামীম মো. আরিফের বাড়িতে আবার হামলা করতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। উভয় পক্ষের লোকজন একে অন্যকে লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল ছোড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কান্দিপাড়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আগুন ধরিয়ে মাদ্রাসা রোড বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. এমরানুল ইসলাম জানান, সেদিন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৫টি বিস্ফোরিত ককটেলের খোসা ও চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে। দুপক্ষের এই সহিংসতার ঘটনায় এসআই শ্রীবাস বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন।  দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সহিংসতার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আবু শামীম মো. আরিফ বলেন, ‘কান্দিপাড়ার দক্ষিণদিকের পুকুর পাড় থেকে একদল ছেলে এসে আমার বাড়ির ফটকে হামলা চালায়।’

জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির আহ্বায়ক ফুজায়েল চৌধুরী বলেন, ‘মাঠের কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন।’ অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী বলেন, ‘পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ক্ষোভ থেকেই নেতাদের বাড়িতে হামলা করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত