বিএসএমএমইউতে বিক্ষোভ উপাচার্য অবরুদ্ধ

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৩, ০৪:০৫ এএম

ভাতা বাড়ানো, কয়েক মাসের বকেয়া ভাতা পরিশোধ এবং প্রাপ্য ভাতা নিয়মিত দেওয়ার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিক্ষোভ করেছেন বিএসএমএমইউর অধীনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট চিকিৎসকরা।

এ সময় পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক দুপুর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সে সময় হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও সেখানে জড়ো হন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তারা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। উপাচার্যকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।

পরে বিক্ষোভ চলাকালেই পাঁচজন চিকিৎসকের একটি দল উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেন। তবে চিকিৎসকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট কোনো আশ্বাস দেননি বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা।

আন্দোলনকারী এক চিকিৎসক জানান, তিন দফা দাবিতে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে তারা সন্তুষ্ট নন। কিন্তু এর আগে গত ১১ জুন বিসিপিএস (বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস) চিকিৎসক নেতাদের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি ভেবে দেখবেন। সেজন্য আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখবেন তারা। সেদিন দাবি পূরণ না হলে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনকারী এক চিকিৎসক জানান, গতকাল তিন দফা দাবি জানাতে আমরা উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা না বলে দরজা বন্ধ করে দেন। চিকিৎসকদের দাবি ছিল সব ধরনের প্রাইভেট পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকের ভাতা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করতে হবে, এই ভাতা নিয়মিত প্রতি মাসে দিতে হবে এবং যাদের ভাতা বকেয়া আছে তাদের ভাতা পরিশোধ করে দিতে হবে। কিন্তু উপাচার্য চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা না বলে তার কক্ষের কেচিগেট বন্ধ করে দেন।। উনি বের হননি। উল্টো তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আমাদের বিরুদ্ধে নামিয়ে দেন। তারা এসে আমাদের বিরুদ্ধে সেøাগান দিয়েছেন। উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে পরিস্থিতি খারাপ করার চেষ্টা করেছেন।

আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা আরও বলেন, বৈঠকে চিকিৎসকদের নানাভাবে ‘ভয়ভীতি’ দেখানো হয়েছে। সেখানে উপাচার্যের লোকজন আন্দোলন বাদ দিয়ে কাজে ফিরে না গেলে কোর্স থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের জামায়াত-শিবির করার অভিযোগ করেন। পরে রাতে বিএসএমএমইউ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়ে। সেখানে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রেসিডেন্টরা আমার সন্তানতুল্য। তাদের ভাতার বিষয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের জোর চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানেও সমাধান না হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত