নওগাঁয় আটকের পর র্যাবের হেফাজতে সুলতানা জেসমিন (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে আরও দুই মাস সময় দিয়েছে উচ্চ আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। হাইকোর্ট এ সময় বলে, ঘটনাটি খুব স্পর্শকাতর। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত যেন শেষ করা হয়, সে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয় হাইকোর্ট। এর আগে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ এপ্রিল হাইকোর্ট এক আদেশে দুজন বিচারকসহ একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। কমিটিতে জেলা ও দায়রা জজ এবং মুখ্য বিচারিক হাকিম (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) পদমর্যাদার দুজন বিচারককে রাখতে নির্দেশ দিয়ে ঘটনার তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নওগাঁর এ ঘটনার সময় দায়িত্বরত (জেসমিনকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ) র্যাব সদস্যদের তদন্তকালীন সংস্থার সদর দপ্তরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশসহ রুল দেয় হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের নির্দেশের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. মাহমুদুল হোসাইন খানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে বিষয়টি আবারও শুনানিতে আসে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ। রিট আবেদনকারী হিসেবে আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নওগাঁ সদর উপজেলার চ-ীপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে অফিস সহকারী পদে চাকরি করতেন সুলতানা।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) এনামুল হকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুলতানাকে আটক করা হয়। প্রতারণার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মার্চ সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় থেকে আটক করে র্যাব। এরপর অসুস্থ হয়ে ২৪ মার্চ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তবে সুলতানা জেসমিনের স্বজনদের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনের কারণে মারা গেছেন তিনি।
