পদযাত্রায় ফখরুল

এমন ইসির অধীনে সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৩, ০৫:১৪ এএম

বরিশাল ও খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কী চেয়েছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা ফয়জুল করীম মারা যাক। ধিক্কার জানাই তার এমন কথায়। একদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আবার সেখানে একজন প্রার্থীকে আহত করা হয়েছে তা নিয়ে ইসি’র কোনো অনুশোচনা নেই। এমন ইসি’র অধীনে সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।’ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গোপীবাগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক পদযাত্রা কর্মসূচির উদ্বোধনপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে গোপীবাগ সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ওয়াক্তিয়া মসজিদ মোড়ে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে বিদ্যুতের ভয়াবহ  লোডশেডিং, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে পদযাত্রা শুরু হয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব মোড়, টিকাটুলী, রাজধানী মার্কেট, স্বামীবাগ, দয়াগঞ্জ, ধোলাইখাল মোড় হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। হাজার হাজার  নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এই পদযাত্রায় অংশ নেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান ইসি অনেকগুলো মেয়র নির্বাচন করেছে। একটি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। সিইসি কী করে বলেন, তিনি নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট। কীভাবে তিনি সন্তুষ্ট। বরিশালে হাতপাখার প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। তাকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। একটি সিটি নির্বাচন যে ইসি করতে পারে না তারা কীভাবে সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান তাকে কীভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সুদূরে নির্বাসিত করে রেখেছে। আমাদের এখানে এমন কোনো নেতা নেই তার বিরুদ্ধে ৪০/৫০টা মামলা নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা কখনোই ১০টারও বেশি আসন পাবে না।’

‘আপনারা ক্ষমতা ছেড়ে মাঠে আসুন’ : ‘আসেন না নির্বাচনে কার কত শক্তি দেখি’-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতা ছেড়ে পুলিশ, প্রশাসন ছেড়ে মাঠে আসেন। সত্যিকার অর্থে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেন। তখন দেখা যাবে কার কত শক্তি। এখনো সময় আছে মানে মানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। তা না হলে যতই চেষ্টা করেন পালাবার পথও পাবেন না।’

মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন খায়রুল কবির খোকন, মীর সরাফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, কাজী আবুল বাশার, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মহানগর দক্ষিণের নবী উল্লাহ নবী প্রমুখ।

জনগণের আন্দোলনে শামিল হন : ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে মহাখালী থেকে শোভাযাত্রাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘জনগণের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে শামিল হন। আপনারা যারা পুলিশ, র‌্যাব, আনসারে আছেন সরকারি কর্মকর্তা আছেন আপনারা আপনাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বিঘেœ পালন করতে পারবেন। আপনারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েন না, জনগণের পাশে থাকেন। কারণ আমরা জয়ের শেষ ভাগে এসে পৌঁছেছি। চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে আমরা।’

মহাখালী থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে শেষ হয় কারওয়ান বাজারে গিয়ে। কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আসাদুজ্জামান রিপন, আমিনুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা তাবিথ আউয়াল মিন্টু, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত