২০১৪ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম। তার জন্ম ১৯২৫ সালের ১ মে বরিশালের আটিপাড়া গ্রামের এক কৃষক পরিবারে। সরদার ফজলুল করিমের শৈশবকাল কেটেছে গ্রামে। ম্যাট্রিকুলেশন শেষে তিনি প্রথম ঢাকায় আসেন ১৯৪০ সালে। ১৯৪২ সালে তিনি তার আইএ পাঠ সমাপ্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৪৫ সালে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স এবং ১৯৪৬ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রের শিক্ষক ছিলেন। পরে তিনি সাম্যবাদী বামপন্থি আন্দোলনে যুক্ত থাকার পর্যায়ে পাকিস্তান সরকার কর্র্তৃক নিগৃহীত হন। রাজবন্দি হিসেবে দীর্ঘ ১১ বছর বিভিন্ন পর্যায়ে কারা জীবনযাপন করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায়ই ১৯৫৪ সালে তিনি পাকিস্তান সংবিধান সভার সদস্য হিসেবে কাজ করেন। পরে ১৯৬৩ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, ‘চল্লিশের দশকে ঢাকা’, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক’, ‘রুমীর আম্মা’ ইত্যাদি। প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্থ, ‘প্লেটোর রিপাবলিক’, ‘প্লেটোর সংলাপ’, ‘অ্যারিস্টটলের পলিটিকস’ ইত্যাদি। সিধু ভাই স্মৃতিপদক, দৈনিক জনকণ্ঠ গুণিজন সম্মাননা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ কর্র্তৃক গুণিজন সম্মাননা, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, সা’দত আলী আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
×
