৩ ডিসেম্বর, কাতারের আল রায়ান স্টেডিয়াম। বিশ্বকাপ শেষ ১৬’র ম্যাচে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়া। ১৫ জুন, চীনের ওয়ার্কার্স স্টেডিয়াম। এখানে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি দুই দল। দূরত্ব ও সময়ের হিসেবে ব্যবধান লম্বা হলেও ম্যাচের হিসেবে শূন্য। বিশ্বকাপ শেষ ১৬’র পর আজ প্রথম লড়বে র্যাংকিংয়ে ১ ও ২৯ নম্বরে থাকা দুই দল। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
বিশ্বকাপের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের পার্থক্য যেমন এ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলের পার্থক্যটাও তেমন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে ঢেলে সাজানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। নতুন মুখের ছড়াছড়ি দলে। ২৩ ফুটবলারের মাত্র ১২ জন গত বিশ্বকাপে খেলেছেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনায় পরিবর্তন নেই। বিশ্বকাপজয়ী দলের আবহ ধরে রেখে জয় পেতে চায় লিওনেল মেসিরা।
বিশ্বকাপ নকআউটে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হারিয়েছিল সকারুজদের। ইতিহাসে দুই দলের ৮ লড়াইয়ে সেবার ষষ্ঠতম জয় পেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। এর আগের চারটি ম্যাচেও জয় ছিল আর্জেন্টিনার। শুধু ১৯৮৮ সালে ২০০তম বার্ষিকী গোল্ডকাপে ৪-১ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর ১৯৯৪ বিশ্বকাপের প্লে-অফে ১-১ গোলের ড্র। এর বাইরে সব ম্যাচে সকারুজরা ছিল ব্যর্থ।
অবশ্য গত বিশ্বকাপের ম্যাচটি ভিন্ন। দারুণ উজ্জীবিত এক দলকে হারাতে ঘাম ঝরেছিল আর্জেন্টিনার। ম্যাচের শেষে সমতায় প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল সকারুজরা। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের টুর্নামেন্টে ভাগ্য ছিল আলবিসেলেস্তেদের পক্ষেই। ওই ম্যাচে ৭৭ মিনিটে লড়াইয়ে ফেরে অস্ট্রেলিয়া। ২-০ তে পিছিয়ে থাকা দলটির হয়ে গোল করেন আলেক্সান্ডার গুডউইন। ৮১ মিনিটে আরেকটি ক্ষিপ্র দলীয় আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার গোল প্রায় নিশ্চিত ছিল। সেখানো লিসান্দ্রো মার্তিনেজ সøাইড করে গোলপোস্টে নেওয়া শট বাইরে পাঠিয়ে দলকে রক্ষা করেন। পরের ৯ মিনিটে প্রবল চেষ্টা করেও আর্জেন্টিনাকে রুখতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
ওই ম্যাচে লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারের হাজারতম ম্যাচ পূর্ণ করেন। সেদিনই গোল করে নিজেই নিজের মাইলফলকের উপহার দেন। আবার ওই গোলটিই মেসিকে এনে দেয় ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে টপকে যাওয়ার গৌরব। ম্যারাডোনার ৮ গোল ছাপিয়ে গিয়েছিলেন মেসি। এতদিন পর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নেমে আরও একটি ওই রকম উৎসবের রাত কাটাতে চাইবেন মেসিরা। অবশ্য প্রীতি ম্যাচ জেতা অমন কোনো বড় উপলক্ষও না। তবুও জয় তো আনন্দেরই।
সেই আনন্দে এবার বাধা হতে চাইবে তরুণ সকারুজরা। দলটির কাছে বিশ্বকাপ ম্যাচের স্মৃতি একদম টাটকা। কারণ এই সাত মাসে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের প্রীতি সিরিজে প্রথমটিতে ৩-১ জয় ও দ্বিতীয়টিতে ২-১-এ হেরেছে। তবে কোচ গ্রাহাম আরনল্ড জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই নতুন দল নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আর শুরুতেই আনকোরা দলটিকে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে। অবশ্য এই চ্যালেঞ্জ কোনো ভাবে জিতে গেলে গড়ে ২৪ বছর ৬ মাস বয়সী দলটির আত্মবিশ্বাস আকাশ ছুঁবে।
মেসিদের জন্য এই ম্যাচ শুধুই প্রীতি ম্যাচ। অবশ্য সবশেষ দুই প্রীতি ম্যাচের চেয়ে এবারের প্রতিপক্ষ শক্ত। সবশেষ দুই ম্যাচে পানামার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ৮০০তম গোল পেয়েছিলেন মেসি। এছাড়া পরের ম্যাচে কুরাকাওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে পেয়েছিলেন দেশের জার্সিতে একশ গোল করার গৌরব। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের কিছু হয়তো নেই তবে দলীয় অর্জনের পথ খোলা আছে। সেই অর্জন জয়রথ ছুটিয়ে চলার। সবশেষ ৪৫ ম্যাচে মাত্র একটিতে হেরেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে ওই ২-১ গোলের অঘটন। আজকের ম্যাচে সে রকম অঘটন এড়াতে চাইবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
পেশাদার ক্যারিয়ারে নতুন দল বেছে ইন্টার মায়ামিকে বেছে নিয়েছেন মেসি কদিন আগে। সেই দলে আনুষ্ঠানিক যোগদানের আগে আজকের ম্যাচ খেলে লম্বা ছুটিতে যাবেন তিনি।
