বিচারপতি নূরুজ্জামান বললেন

আংকেল কোর্ট ব্যাচমেট ক্লাসমেট কোর্টের গুঞ্জন আছে

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৩, ০৬:২৭ এএম

বুদ্ধিগত (ইন্টেলেকচুয়াল) দুর্নীতিতে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থার ব্যত্যয় ঘটে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান। বিচারালয়ের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে দেশে সঠিক গণতন্ত্রের চর্চা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির এজলাস কক্ষে বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবসে তাকে দেওয়া বিদায় সম্ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। আগামী ৩০ জুন তার ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যাচ্ছেন বিচারপতি নূরুজ্জামান। তবে, তিনি পবিত্র হজে যাবেন এবং আগামী ২২ জুন থেকে ৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ থাকায় গতকালই ছিল তার শেষ কর্মদিবস। প্রথা অনুযায়ী এদিন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে সমিতির সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির বিদায়ী বিচারককে বিদায় সম্ভাষণ দেন। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীসহ আপিল বিভাগের অপর বিচারকরা এ সময় এজলাসের আসনে ছিলেন।

বিচারপতি নূরুজ্জামান বলেন, ‘আমি আমার আইনজীবী ও বিচারিক অভিজ্ঞতা থেকেই উপলব্ধি করেছি যে, বিচারালয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই দেশে সঠিক গণতন্ত্রচর্চা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। কিন্তু সমাজে কোনো কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণি এই সত্যকে মেনে না নিয়ে বিচার বিভাগেও বিচারকর্মে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছে, যা দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য বাধা হয়ে ওঠে। তবে এ কথাও একই সঙ্গে সত্য যে, বিচারকদেরও সত্য উপলব্ধি করে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার ব্রত নিয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞ আইনজীবীরা যদি পর্যবেক্ষণ করেন, কোনো কোনো মামলায় বুদ্ধিগত দুর্নীতি হচ্ছে, যেমন এই প্রাঙ্গণে “আংকেল কোর্ট” “ব্যাচমেট” ও “ক্লাসমেট কোর্ট”র গুঞ্জন আছে। সে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থার ব্যত্যয় ঘটে। বিচারালয়ের আইনজীবীরা যদি যোগ্য ও সৎ হন, তবে, বিচারক ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অসৎ থাকতে পারেন না।’

আইনজীবী সমিতিগুলোর পবিত্রতা রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আইনজীবী সমিতিই হচ্ছে আইনজীবী ও বিচারক তৈরির সূতিকাগার। ফলে আইনজীবী সমিতিও একটি শিক্ষালয়তুল্য। বিজ্ঞ সিনিয়ররাই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের ভূমিকা গ্রহণ করেন। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে আইনজীবী সমিতিগুলোর পবিত্রতা রক্ষা করে আইনচর্চা চারণভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করি। তবেই আইন অঙ্গন ও বিচারালয় শক্তিশালী ও পবিত্র হবে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুজ্জামান একাত্তরে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ মহকুমায় সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৫৬ সালের ১ জুলাই কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নূরুজ্জামান। ১৯৭২ সালে মাধ্যমিক, ১৯৭৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক, ১৯৭৮ সালে বিএ, ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে এবং ১৯৮৭ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন নূরুজ্জামান। ২০০৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন। একই বছরের ৩০ জুন তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে এবং ২০১১ সালের ৬ জুন একই বিভাগে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি নূরুজ্জামান। ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত