সমাবেশে চরমোনাই পীর

সিইসির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আর জাতীয় সরকার দাবি

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৩, ০৬:০৫ এএম

গত ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন দলের মেয়র প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বরিশালের সমাবেশে দলটির প্রধান চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শাস্তি দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় বরিশাল নগরীর সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে চরমোনাই পীর এসব দাবি করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল জেলা ও মহানগরের যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়।

ছোট ভাই সৈয়দ ফয়জুল করীমের ওপর হামলাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য আক্রমণ বলে দাবি করেন সৈয়দ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ‘আমরা বরিশালের সন্তান। এই সদর থানায় আমাদের বাড়ি। আমরা পানির স্রোতে ভেসে আসি নাই। যারা হামলা করেছেন, আপনাদের পায়ের নিচে মাটি থাকবে না।’

‘তিনি কি ইন্তেকাল করেছেন?’ ফয়জুল করীমকে নিয়ে এমন কা-জ্ঞানহীন বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়িত্বের সঙ্গে চরম বেমানান বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে এই সিইসিকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় বাধ্য করা হবে।’

বরিশাল ছাড়াও ঢাকা, রাজশাহী, জামালপুর, মাগুরাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

জুমার নামাজের পর ঢাকার পল্টনে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে সিইসির মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানি অভিযোগ করেন, বরিশালের মানুষ ভোট দেবে হাতপাখায়, কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকেরা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে জোর করে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করেছে।

ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে সিইসির পদত্যাগের দাবি : ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল আউয়াল বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাই মুখ্য। তবে বর্তমান কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন অতীতের সব নির্লিপ্ততা পেছনে ফেলে ইতিমধ্যে মানসিক বিকারগ্রস্ত হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে। ‘তিনি কি ইন্তেকাল করেছেন?’ শায়েখে চরমোনাইকে নিয়ে এমন বক্তব্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বের সঙ্গে চরম বেমানান। এমন বক্তব্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ইতিমধ্যে সিইসির এমন বক্তব্যেকে সচেতনমহল ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেল ৩টায় নগরীর বায়তুন নুর উত্তর গেটে খুলনা মহানগর ও জেলা কমিটি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুল আউয়াল বলেন, ‘বর্তমান সরকার নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বারবার একটি পক্ষপাতদুষ্ট কমিশন নিয়োগ দিচ্ছেন। যারা ইনিয়ে-বিনিয়ে জাতিকে ধোকা দিয়ে বারবার প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করে চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান ছাত্রলীগ বিগত সময়ের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে সব অর্জনকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে, যার বাস্তব প্রমাণ খুলনা ও বরিশাল সিটি নির্বাচন।’ এসব ‘সন্ত্রাসীদের’ যদি উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকার ও প্রশাসন ব্যর্থ হয় তাহলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সংগঠনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরানের সভাপতিত্বে ও নগর সেক্রেটারি মুফতি ইমরান হুসাইন ও জেলা সেক্রেটারি হাফেজ আসাদুল্লাহ গালিবের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের নগর সহসভাপতি মুফতি আমানউল্লাহ, মাওলানা শায়খুল ইসলাম বিন হাসান, শেখ মো. নাসির উদ্দিন, শেখ হাসান ওবায়দুল করিম, মো. আবু গালিব, মাওলানা দ্বীন ইসলাম, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মুফতি আশরাফুল ইসলাম, মাওলানা আব্বাস আমীন, এসএম শাহিন হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির, মুফতি আমিরুল ইসলাম, আলহাজ আবুল কাশেম, মো. নিজাম উদ্দিন মল্লিক, অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, মুফতি ইলিয়াস মাঞ্জুরী, আলহাজ শফিউল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা জিএম কিবরিয়া, আলহাজ সরোয়ার বন্ধ, আলহাজ আব্দুস সালাম, হাফেজ আব্দুল লতিফ, মোল্লা রবিউল ইসলাম, এইচ এম আরিফুল ইসলাম, গাজী ফেরদাউস সুমন প্রমুখ।

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা; বরিশাল, রাজশাহী, জামালপুর, মাগুরা প্রতিনিধি ও খুলনা সংবাদদাতা)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত