এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ মিনার ও মাঠ দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ঈদের নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারই প্রথম ঈদের নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের জন্য থাকছে দুটি স্পেশাল ট্রেন। সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে মাঠে মাটি ভরাট ও সংস্কার, রং করা, ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। নির্মাণ হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার।
গতকাল শনিবার দুপুরে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে (কাঞ্চন) প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোমিনুল করিম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী জয়নুল আবেদীন, পৌরসভা মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলালসহ বিভিন্ন দপ্তর ও বাহিনীর কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, ঈদুল ফিতরে এই মাঠে একসঙ্গে ছয় লক্ষাধিক মানুষ নামাজ আদায় করেছিল। পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে আগত মুসল্লিদের জন্য দুটি স্পেশাল ট্রেন থাকছে, যা এবারই প্রথম। একটি ট্রেন পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁও দিয়ে দিনাজপুর ও অন্যদিকে পার্বতীপুর থেকে চিরিরবন্দর হয়ে দিনাজপুরে আসবে। বিশাল এই জামাতে দিনাজপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা যেন নামাজে অংশ নিতে পারেন এজন্য প্রচার-প্রচারণা ও নিরাপত্তার বিষয়ে বরাবরের মতো জোর দেওয়া হয়েছে। নামাজে ইমামতি করবেন জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শামশুল হক কাশেমী।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ ময়দানে সংস্কারকাজ, স্থাপনা নির্মাণসহ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। এর পর থেকে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ মাঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গোর-এ-শহীদ ময়দানে স্থাপিত ঈদগাহের মিনারটি তৈরি করা হয়েছে মোগল স্থাপত্যরীতিতে। মিম্বারের উচ্চতা ৫৫ ফুট। মসজিদে নববি, কুয়েত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি করা হয়েছে মিনারগুলো।
