ইউক্রেনের বাঁধ ধস ও পরিবেশগত বিপর্যয়

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৩, ১০:৪২ পিএম

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ কাখোভকা চলতি মাসের শুরুতে হঠাৎ ধসে পড়ে। এর জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরকে দায়ী করছে। বাঁধসংলগ্ন অঞ্চল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার দখলে। বাঁধ ধসের পর ইউক্রেন পরিবেশগত নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে আছে। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

কাখোভকা বাঁধ

ইউক্রেনের দক্ষিণে খেরসন অঞ্চলের শহর নোভা কাখোভকা। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত শহরটি রাশিয়ার দখলে। নোভা কাখোভকার নিপ্রো নদীতে আছে ইউক্রেনের পঞ্চম বৃহৎ বাঁধ কাখোভকা। ৬ জুন বাঁধটি রহস্যজনকভাবে ধসে পড়ে। ফলে নদীর দুই পারের বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়। হাজার হাজার ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। বহু মানুষ অঞ্চলটি ছাড়তে বাধ্য হয়। কমপক্ষে ১৪ জন ওই ঘটনায় প্রাণ হারায়। সোভিয়েত আমলে কাখোভকা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। নিপ্রো নদীতে বাঁধটি দেওয়ার ফলে সৃষ্টি হয় বিশাল জলাধার। এটি এতই বিশাল যে, স্থানীয়রা জলাধারটিকে কাখোভকা সাগর বলে, কারণ জলাধারের এক পারে দাঁড়ালে অপর পার দেখা যায় না। কাখোভকা জলাধারের পানি ব্যবহার করে উৎপাদন করা হয় বিদ্যুৎ। ৬ জুনের ওই ঘটনার পর ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও ন্যাটো কাখোভকা বাঁধ ধসের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে। অন্যদিকে রাশিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে ইউক্রেনকে পুরো ঘটনার জন্য দায়ী করে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এখনো চলছে। কিন্তু কাজটি আসলে কে করেছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো স্টিফেন ব্রায়েন বলেন, ‘রুশরা যদি কাখোভকা বাঁধ উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করত, তাহলে তাদের নৌকায় করে কয়েক টন বিস্ফোরক দ্রব্য সেখানে নিয়ে যাওয়া লাগত। এরপর বাঁধে বিস্ফোরক লাগিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে হতো। ইউক্রেন সরকার বাঁধ ধসের যে ভিডিও প্রকাশ করেছে, তা দেখে আমার মনে হয়েছে, বিস্ফোরণ পানির ওপরে না, নিচে হয়েছে। কাখোভকা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হতো। এ ছাড়া ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিঝিয়ায় ব্যবহৃত শীতল পানি কাখোভকা জলাধার থেকে সরবরাহ করা হতো। ইউক্রেনের দক্ষিণ ও ক্রিমিয়ার উত্তরাঞ্চলে

কৃষিকাজের পানিও ওই জলাধার থেকে যেত। গত বছরের ৮ অক্টোবর ক্রিমিয়ান সেতু উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেতুর ওপর থাকা একটি ট্রাকে প্রথমে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই সঙ্গে পানির নিচে এক যানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেতুর সাপোর্টিং পিলার ধ্বংস করা হয়। সেতুর প্রধান পিলার ধ্বংস হয়নি, যার অর্থ পানির নিচের বিস্ফোরণ অতটা শক্তিশালী ছিল না। বিমান থেকে বোমা ফেলে বা ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ক্রিমিয়ান সেতু ওই সময় উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। কাখোভকা বাঁধ ভেঙে দেওয়ার মতো অস্ত্র খুব অল্পই আছে। তার ওপর ৬ জুন বাঁধটি যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাতে আমার মনে হয় না, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কোনো বোমা বাঁধের এত ক্ষতিসাধন করতে পারে। এখানে মনে রাখা দরকার, চলতি বছরের মে আর জুনে বাঁধটিকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছিল। ফলে বাঁধটির কয়েক জায়গায় ফাটল ধরে যায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ভেতরের কেউ কাজটি করেছে। তিনি রুশদেরকেই বুঝিয়েছেন। রুশদের তিনি দায়ী করলেও ইউক্রেন যে কাজটি করেনি, তা কে জানে? সোভিয়েত আমলের একটি ঘটনা হয়তো অনেকের মনে আছে। ১৯৪১ সালে ইউক্রেন হয়ে জার্মানরা যখন অগ্রসর হচ্ছিল, তাদের থামাতে তখন এই নিপ্রো নদীতেই নির্মাণ করা সে সময়ের বিশ্বের

তৃতীয় বৃহৎ বাঁধে বোমা হামলা করেছিল স্টালিনের বাহিনী। কাখোভকা বাঁধ ধ্বংস করে রুশরা কী অর্জন করবে, তা খুব একটা পরিষ্কার নয়। বরং বাঁধ ধসের পরপরই ইউক্রেন সরকারের উদ্ধার তৎপরতা বেশ লক্ষণীয়। তারা খুব দ্রুত প্লাবিত এলাকা থেকে লোকজন সরাতে কয়েক ডজন নৌকা পাঠায়। অল্প সময়ের মধ্যে ইউক্রেন সরকার পরিচালিত উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণ দেখে যে কারোরই মনে হওয়া স্বাভাবিক, পুরো ঘটনার জন্য তারা যেন আগে থেকে প্রস্তুত ছিল এবং ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর তারা দ্রুত কাজে নেমে পড়ে।’

নানামুখী ক্ষতি

ইউক্রেনের কাখোভকা বাঁধ ধসে পড়ার ঘটনাকে অনেক বিশেষজ্ঞ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখছেন। নিপ্রো নদী ও তার আশপাশের এলাকা ওই ধসের কারণে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন। গোটা এলাকা কেবল কমপক্ষে ১৮ ফুট পানির নিচে ডুবে যায়নি, একই সঙ্গে ধসের পর সৃষ্ট বন্যা মিঠা পানির উৎস ও কৃষ্ণসাগর অববাহিকা দূষণের ঝুঁকিতে ফেলে। পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা দেখা দেয়। এ ছাড়া কাখোভকা জলাধারের দূষিত পানি ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিজমিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে যে ক্ষতি হয়েছে, তাতে ইউক্রেনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এমনিতেই গত বছরের শুরুতে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা হ্রাস পায়। তার ওপর কাখোভকা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ধসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এখানেই শেষ নয়, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা। এই কেন্দ্রের রিঅ্যাক্টর শীতলীকরণ কাজে কাখোভকা জলাধারের ওপর তারা নির্ভরশীল। রিঅ্যাক্টরে তাপমাত্রার পার্থক্য খুব বেশি হলে ভয়ংকর বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী দেনিস এশমায়ল প্রাথমিক পরিবেশগত ক্ষতি ১৫০ কোটি ডলার ধরেছেন। কেবল নানামুখী ক্ষতি নয়, কাখোভকা বাঁধ ধসের পরিবেশগত প্রভাবের দিকে নজর দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বন্যা

খেরসনের গভর্নর আলেকসান্দার প্রোকুদিন কাখোভকা বাঁধ ধসের দুদিন পর জানান, প্রতি বছর নিপ্রো নদী ও তার আশপাশের এলাকায় গড়ে ১৮.৪১ ফুট বন্যা হয়। ৬ জুনের পর ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, এবারের আকস্মিক বন্যায় নদীর দুপারের প্রায় ৪২ হাজার মানুষ ঝুঁকির মধ্যে আছেন। নিপ্রো নদীর বাম পার ইউক্রেনের দখলে আর ডান পার রুশরা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রোকুদিনের মতে, যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে, তার ৬৮ শতাংশই নদীর বাম পারে অবস্থিত। রুশ কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল থেকে প্রায় ছয় হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্যাটেলাইটে তোলা ছবির মাধ্যমে জাতিসংঘ বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণ করে। তাদের মতে, ৯ জুন পর্যন্ত প্রায় ৬২০ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংস্থাটির।

কেবল মানুষ নয়, জীবজন্তুর ওপরও বাঁধ ধসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং আগামীতে আরও পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বন্যার ঢলে রাশিয়া অধিকৃত নিপ্রো নদীর ডান তীরের কাজকোভা দিব্রোভা চিড়িয়াখানার প্রায় ৩০০ প্রাণী ৬ জুন মারা যায়। ইউক্রেনের পরিবেশমন্ত্রী রাজলেন স্ত্রিলেতস বলেন, ‘বন্য প্রকৃতির কিছু অংশ আমরা চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি।’ ইউক্রেনিয়ান নেচার কনজারভেশন গ্রুপ নামে স্থানীয় এক এনজিওর ভাষ্য, বাঁধ ধসের কারণে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে কাখোভকা জলাধারের মাছের ওপর। তাদের প্রজননক্ষেত্র ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। জলাধারের ছোট ছোট উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থানও একেবারে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পানির উচ্চতা বৃদ্ধি লবণাক্ততা বাড়াবে এবং এতে গাছপালার বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। ইউক্রেনের পরিবেশমন্ত্রী স্ত্রিলেতস জানান, বন্যার পানিতে প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ টন তেল ভাসতে পারে, যা বন্যপ্রাণীর জন্য মারাত্মক বিষাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া বন্যার পানি শিল্প-কারখানা, গ্যাস স্টেশন ও ড্রেন থেকে বিপুল পরিমাণে দূষক সংগ্রহ করে মিঠা পানির উৎসে ফেলবে। ওই বিপর্যয়ের পর প্রায় ১০ লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত। কাখোভকা জলাধারের দূষিত পানি একপর্যায়ে

কৃষ্ণসাগরে গিয়ে পড়বে। এই পানি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে বাধ্য। সমস্যার গভীরতা বুঝতে পেরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি উদ্বেগের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘যে ক্ষতি হয়েছে, তা কেবল ইউক্রেনে সীমাবদ্ধ থাকবে না।’

কৃষির ওপর প্রভাব

ইউক্রেনের কৃষিনীতি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, খেরসন অঞ্চলের ডান তীরে আনুমানিক ১০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাম পাশে রাশিয়ার অধিকৃত অংশে আরও বেশি জমি প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ধসে পড়ার পর খেরসনের ৯৪ শতাংশ, জাপোরিঝিয়ার ৭৪ শতাংশ ও নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ৩০ শতাংশ জমিতে সেচ দেওয়ার মতো পানি নেই। আগামী বছরের শুরুতে ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষিজমি মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা আছে। জমিতে লবণাক্ততার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির কারণে আবাদি জমি সামনের বছরগুলোতে কৃষিকাজের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়তে পারে। ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নিপ্রো নদীর আশপাশের এলাকাজুড়ে গম ও ভুট্টা উৎপাদন করা হয়। এসব উৎপাদন কাখোভকা বাঁধ ধসের কারণে ব্যাহত হতে বাধ্য। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউক্রেনের আট শতাংশ সয়াবিন খেরসনে উৎপন্ন হয়। পাশাপাশি বার্লি ও সানফ্লাওয়ারও ওই অঞ্চলে উৎপাদন করা হয়। ৬ জুনের বিপর্যয় স্বভাবতই খেরসনের শস্য উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করবে। ইউক্রেনকে প্রায়ই বিশ্বের ‘রুটির ঝুড়ি’ বলা হয়। দেশটির ৬৪ শতাংশ গম আফ্রিকার অনেক দেশসহ উন্নয়নশীল দেশে রপ্তানি করা হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই খাদ্যশস্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিশ্বনেতারা। পরে গত বছরের জুলাই মাসে যুদ্ধরত দুই দেশ কৃষ্ণসাগরের মধ্য দিয়ে শস্য রপ্তানি যাতে নির্বিঘেœ করা যায়, এ লক্ষ্যে শস্য রপ্তানি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

জ্বালানির ওপর প্রভাব

ইউক্রেন তার চারটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করা হয় ওই চার বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে। রুশ বাহিনীর দখলে থাকা ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিঝিয়ার শেষ রিঅ্যাক্টর কাখোভকা জলাধারের পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে ১০ জুন বন্ধ করে দেওয়া হয়। অবশ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তাৎক্ষণিক হুমকির মধ্যে নেই, কারণ রিঅ্যাক্টর শীতল করার জন্য বিকল্প জলাধার আছে। ইউক্রেনের পারমাণবিক সংস্থা জানিয়েছে, নিরাপত্তা সতর্কতা বিবেচনায় নিয়ে জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টর বন্ধ রাখা হয়েছে। কেবল পারমাণবিক নয়, কাখোভকা বাঁধ ধস ইউক্রেনের নবায়নযোগ্য জ¦ালানি উৎপাদনও ব্যাহত করে। দেশটির জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি ইউক্রিড্রোএনার্জো ১০ জুন জানিয়েছে, কাখোভকা বাঁধ ধসের কারণে উজানে থাকা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র আগের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত