আসন্ন ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে ১৫ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে সাতজনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এতে আলোচিত প্রার্থী হিরো আলমসহ আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধী দল নেতা রওশন এরশাদ মনোনীত প্রার্থীও আছেন। অবশ্য দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এ তথ্য জানান রিটার্নিং অফিসার মো. মুনীর হোসাইন খান।
বিএনপির সাত সংসদ সদস্য পদত্যাগের পর বগুড়ার একটি আসনে উপনির্বাচন করে আলোচনায় আসা স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলমের (হিরো আলম) মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বলেন, ভোটার জটিলতায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। যেকোনো সংসদীয় আসনে নির্বাচন করতে হলে এক শতাংশ ভোটারের নাম ও স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই এক শতাংশ ভোটার ও তাদের স্বাক্ষর নিতে পারেননি হিরো আলম। রিটার্নিং অফিসারের প্রতিনিধিদল সরেজমিন ঘুরে তার দেওয়া এক শতাংশ ভোটারের হদিস পায়নি। এজন্যই তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা চাইলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন বলেও জানান মুনীর হোসাইন খান।
মনোনয়ন বাতিলের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হিরো আলম বলেন, ‘উনারা যে ভোটারের সংখ্যার কথা বলেছেন তা আমি দিয়েছি। বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, ঋণখেলাপি, মামলাসহ কোনো কিছুই দোষ খুঁজে পায়নি। কিন্তু আমার ভোটাররা এখানে উপস্থিত আছে তারা স্বাক্ষরও করেছে। আপনারা যদি চান তাহলে ভোটারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তারা নাকি আমার দশটা ভোটার খুঁজে পায়নি। নির্বাচন কমিশন থেকে আমাকে ফোন দেওয়া হয়, তারা নাকি আমার ভোটার খুঁজে পায় না। তখন আমি তাদের নিজেই সহযোগিতা করি।’
হিরো আলম আরও বলেন, ‘আমরা এক মাস ধরে ৩ হাজার ৩০০ ভোটারের নাম সংগ্রহ করেছি। অথচ তারা (নির্বাচন কমিশন) পেল না। আমার ভোটারদের তারা ভালো করে খোঁজেনি।’
আদালতে যাবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমি হাইকোর্টে গিয়ে প্রার্থিতা নিয়ে এসেছি। এরপরে ভোটও করছি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, কোর্টে গেলে আমার প্রার্থিতা ফিরে পাব। কারণ সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। তবে আমি অবশ্যই আদালতে যাব প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য।’
যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, জাতীয় পার্টির জিএম কাদের মনোনীত সিকদার আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. রেজাউল ইসলাম স্বপন, গণতন্ত্রী পার্টি মো. কামরুল ইসলাম (চেয়ারম্যান মনোনয়ন দিয়েছে), গণতন্ত্রী পার্টি অশোক কুমার ধর (মহাসচিব মনোনয়ন দিয়েছে), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আকতার হোসেন, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান।
হিরো আলম ছাড়াও মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়াদের মধ্যে আছেন জাকের পার্টির কাজী মো. রাশিদুল হাসান, জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদপন্থি মো. মামুুনুর রশিদ, মো. তারিকুল ইসলাম ভূঞা (স্বতন্ত্র), আবু আজম খান (স্বতন্ত্র), মুসাউর রহমান খান (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মো. মজিবুর রহমান ও শেখ আসাদুজ্জামান জালাল।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ জুন। পরদিন হবে প্রতীক বরাদ্দ। আগামী ১৭ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারে ভোট নেওয়া হবে।
গত ১৫ মে চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠানের (ফারুক) মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য হয়। সংসদের কোনো আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হয়। এ হিসাবে আসনটিতে ১২ আগস্টের মধ্যে উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
