রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) এবারের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে কারও প্রতি কারও কোনো অভিযোগ না থাকলেও অধিকাংশ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীরা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করছেন। প্রচারণা চলাকালে অন্তত ৮টি ওয়ার্ডে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতি মাথায় রেখেই ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পুলিশ প্রশাসন। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যকার উত্তেজনার বিষয়টি বিবেচনায় এনে অধিকাংশ কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
২১ জুন ভোটগ্রহণ হতে যাওয়া রাসিক নির্বাচনে মোট চারজন মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। প্রচারণা চলাকালে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীই প্রতিপক্ষ প্রার্থীর বিপক্ষে কোনো অভিযোগ করেননি। তাদের সবারই মন্তব্য ভোটের মাঠ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক। তবে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের উত্তেজনা চলছে। গত শনিবার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মতিউর রহমান মতি ও জহিরুল ইসলাম রুবেলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন। মতির অভিযোগ, তার প্রচার মিছিলে রুবেলের লোকজন ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। অন্যদিকে রুবেলের দাবি, মতির লোকজন মিছিল থেকে তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা চলছে পুরো ওয়ার্ডেই। রাসিকের ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে এরই মধ্যে ৮টিতে ঘটেছে সংঘর্ষের ঘটনা। এসব বিষয় মাথায় রেখে ভোটের দিনের সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজশাহী নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের রাসিক নির্বাচনে মোট ১৫৫টি কেন্দ্র নির্বাচন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। যার বেশিরভাগকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটের মাঠের পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মীরা আমার ওপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় আমি কোনো বিচার পাইনি। তবে সুষ্ঠু ভোট হলে ভোটের মাধ্যমে মানুষ তাদের জবাব দেবে।’
রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে সব কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সব কেন্দ্রে পুলিশ নিয়োগ করছি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ থেকে ৭ জন আর সাধারণ কেন্দ্রে ৫ জন করে পুলিশ রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সব ধরনেরই প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। নির্বাচনের মাঠে আমাদের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সও কাজ করবে। নির্বাচনে কেউ নাশকতা করার চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।’
সার্বিক বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবারই প্রথম রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ চলছে। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। কয়েকটি ওয়ার্ডে উত্তেজনার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এসব মাথায় রেখেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এখানে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি থাকবে। ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। মূলত নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ করার জন্য যা যা দরকার তার সবটাই করা হবে। আর কতটা কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে তা নিয়ে কাজ চলছে।’
রাসিক নির্বাচনে ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে নতুন ভোটার ৩০ হাজার ১৫৭ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৮৫ এবং নারী ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৭২ জন। এর মধ্যে ৩০ হাজার ১৫৭ জন তরুণ-তরুণী প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন। গত বছর ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২২ হাজার। এবার ১৫৫টি কেন্দ্রের ১ হাজার ১৭৩টি কক্ষে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে।
কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে আসুন : লিটন
প্রচারনার শেষ দিনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এসময় তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয়ভাবে সারাদেশে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন। আমরা রাজশাহীতে স্থানীয়ভাবে উন্নয়নের যে ধারা সূচনা করেছি, সেটি অব্যাহত রাখতে চাই। রাজশাহীর মানুষের জন্য কর্মের ব্যবস্থা করতে চাই। রাজশাহীবাসীর প্রতি আমার আহ্বান আপনাদের কল্যানে কাজ করতে আমাকে আরেকটিবার সুযোগ দিন।’
সোমবার দুপুর ১২টায় নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এই সদস্য নগরবাসীকে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়াই আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্র আসুন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট প্রদান করবেন। বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে এলে আমরা খুশি হতাম। কিন্তু তারা নানা শর্ত আরোপ করে নির্বাচনে আসলেন না, সেটি তাদের বিষয়।’
