পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

বাইডেন-মোদি কী আলোচনা করবেন এটা তাদের বিষয়

আপডেট : ২০ জুন ২০২৩, ০৫:৩৫ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে জো বাইডেনের সঙ্গে কী আলোচনা করবেন, সেটা তাদের বিষয়। সেখানে বাংলাদেশের ওকালতি করার প্রয়োজন নেই।

গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের দেশপ্রেম অত্যন্ত পরিপক্ব ও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশটি পরিপক্ব একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তারা যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই আলাপ করবেন। ওখানে আমার ওকালতি করার প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, কোন দেশ কোথায় কী বিষয়ে আলাপ করবে, সেটা তাদের বিষয়। ওই দেশের কে কী নিয়ে আলাপ করবেন, এটা নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা কেন?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বৈঠকে সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন ভিসানীতির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি কংগ্রেস সদস্যদের চিঠির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চিঠিতে কিছু তথ্যের গরমিল আছে, ভুল আছে। মিথ্যা তথ্য আছে। যাদের লবিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা মিথ্যাচার করছেন। যেমন একটা মিথ্যা হলো তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে শেখ হাসিনার সরকারে হিন্দুরা নির্যাতিত হয়েছেন। খ্রিস্টানদের ওপর অত্যাচার হয়েছে। এগুলো তো সত্য নয়। এসব বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে লবিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লবিস্ট নেই। আমরা বাদ দিয়েছি; বরং যারা লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছেন তাদের বলছি, আল্লাহর ওয়াস্তে দেশটারে ধ্বংস করার তালে থাকবেন না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশ তো আমার আপনার সবার। সুতরাং দেশকে ধ্বংস করে লাভ নেই। যারা লবিস্ট নিয়োগ দেবেন, তারা যেন দেশের মঙ্গলের বিষয়টি মাথায় রাখেন।

লবিস্ট নিয়োগকারীদের প্রতি (কারও নাম উল্লেখ করেননি) দেশে কীভাবে আরও জ্বালানি পাওয়া যায়, কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, এজন্য লবিস্ট নিয়োগের অনুরোধ জানান আবদুল মোমেন।

ব্রিকস আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়ে এতে যোগ দেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রিকস হচ্ছে- ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাথ এ পাঁচটি দেশের একটি অর্থনৈতিক জোট।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদেরকে তারা আমন্ত্রণ জানালে আমরা অবশ্যই যোগ দেব। এখনো আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি।’ ব্রিকস নেতারা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়াসহ আটটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছেন বলে জানান তিনি। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য হয়েছে।

এর আগে জেনেভায় মোমেন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য হতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী ২২-২৪ আগস্ট ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ব্রিকস নেতারা যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জোহানেসবার্গের গৌতেংয়ের স্যান্ডটন কনভেনশন সেন্টারে (এসসিসি) শীর্ষ সম্মেলনটি হওয়ার কথা রয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত