গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ সংসদে জানিয়েছেন, ঢাকার পূর্বে মেঘনা নদী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে পদ্মা সেতু পর্যন্ত রাজধানী উন্নয়ন
কর্র্তৃপক্ষের (রাজউক) অধিক্ষেত্র হিসেবে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের অনুশাসন পেলে রাজউক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রের আটটি অঞ্চলের ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, কেরানীগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকা অবস্থিত। সাভার উপজেলার পুরোটাই রাজউকের আওতাধীন। তিনি বলেন, রাজউকের আওতাধীন গাজীপুর সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকা বর্তমানে গাজীপুর উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকা হিসেবে বিবেচিত। তাই ওই এলাকা বাদ রাজউক অধিক্ষেত্র পুনর্নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শাহে আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাসরত অবাঙালিদের পুনর্বাসনের জন্য ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৫ হাজার ৬০০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব শহরে দরিদ্র কমিউনিটির ছিন্নমূল জনগণকে টেকসই উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। ছিন্নমূল জনগণকে বিস্তৃত পরিসরে আবাসন সুবিধা দিতে গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় ভাড়াভিত্তিক আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজার ৩২টি ভাড়াভিত্তিক আবাসিক ফ্ল্যাট তৈরির প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সৈয়দা রুবিনা আক্তারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীসহ প্রধান প্রধান শহরের বস্তিতে জীবিকার তাগিদে মানবেতরভাবে বসবাস করা প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীকে ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাটে বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকায় বস্তিবাসীর জন্য এক হাজার একটি ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণের অংশ হিসেবে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে ৫৩৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ শেষ হয়েছে। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের ৩ আগস্ট এ প্রকল্পের মধ্য থেকে ৩০০টি ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র ৩০০টি বস্তিবাসী পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করেন। চলতি বছর এ প্রকল্পের অবশিষ্ট ২৩৩টি ফ্ল্যাট ২৩৩টি বস্তিবাসী পরিবারের মধ্যে ভাড়াভিত্তিক বরাদ্দপত্র দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে : শিক্ষামন্ত্রী সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিটি বিভাগে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে সরকারি কলেজের সংখ্যা ৭০১টি।
গতকাল সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
সরকারদলীয় সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আটটি পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি বেসরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। দেশে পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ময়মনসিংহ, গাজীপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে অবস্থিত। শরীয়তপুর এবং নাটোরে নতুন দুটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম চলমান।
সরকারদলীয় সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি জানান, বর্তমানে সারা দেশে সরকারি কলেজের সংখ্যা ৭০১টি। এতে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৬ জন। যার মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১২ লাখ ৯৭ হাজার ২১৭ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬১ হাজার ৬৬৯ জন।
একই দলের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকারের দারিদ্র্যবান্ধব কার্যক্রম গ্রহণের ফলে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী বেড়েছে। এ ছাড়া সরকারের টানা তিন মেয়াদে সারা দেশের সাড়ে পাঁচ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।
