রাজধানীর উত্তরা থেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবু শামীম রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। পরিবারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। গত ৩১ মে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের একটি সড়ক থেকে রাত দেড়টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পরদিন শামীমের বড় ভাই আবু সেলিম মো. আল মামুন অর রশিদ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জিডি করেন।
নিখোঁজ আবু শামীম ২০১৫ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের কমিটির উপযোগাযোগ উন্নয়ন সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
এ ব্যাপারে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মাসুদ আলম বলেন, আবু শামীম নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজের ঘটনায় থানায় একটি জিডি হয়েছে। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। মোবাইল ফোনটি উত্তরা এলাকায় বন্ধ হওয়ার পর আর চালু হয়নি। তার নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি দায়েরকারী আল মামুন অর রশিদ বলেন, তাদের মা সাজেদা বেগম উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ৩১ মে রাত দেড়টার দিকে মাকে দেখে হাসপাতাল থেকে বের হন শামীম। হাসপাতালের সামনে রাখা মোটরবাইকে করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেয়। এর পর থেকে তার আর খোঁজ মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের সামনের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, শামীম হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সামনে রাখা মোটরসাইকেলের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তি শামীমকে অনুসরণ করছিলেন। মোটরসাইকেলে ওঠার সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একটি মাইক্রোবাস ডেকে আনেন। মাইক্রোবাসটি শামীমের মোটরসাইকেলটি অনুসরণ করতে থাকে।’
এ ব্যাপারে আবু শামীমের মা সাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য আমার জানা নেই। যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হোক।’
