টাইটানের পরিসমাপ্তি একদিকে শোক অন্যদিকে প্রশ্ন

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩, ০২:২৫ এএম

ঐতিহাসিক টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে নিজেরাই ইতিহাস হলেন ছোট্ট ডুবোযান ‘টাইটানের’ পাঁচ অভিযাত্রী। এ পাঁচজন হলেন ওশেনগেট এক্সপেডিশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টকটন রাশ। এ ওশেনগেটই সবমার্সিবল পরিচালনা করেছিল এবং টাইটানিক দেখতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের প্রতিজনের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নেওয়া হয়েছিল। রাশ ছাড়াও ডুবোযানটিতে আরও ছিলেন ব্রিটিশ ধনকুবের, বিমান সংস্থা অ্যাকশন অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান হামিশ হার্ডিং (৫৮), পাকিস্তানের এংরো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাদা দাউদ (৪৮) ও তার ছেলে সুলেমান দাউদ (১৯), ফরাসি পর্যটক পল অঁরি নারজিলে (৭৭)।

তাদের নিয়ে সাগরে ডুব দেওয়া টাইটান নামের ডুবোযানটি গত রবিবার থেকে নিখোঁজ ছিল। আন্তর্জাতিক পরিসরে কয়েক দিন ধরে খোঁজার পর গত বৃহস্পতিবার টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের কাছের একটি এলাকায় কিছু ভাঙা বস্তুর সন্ধান মেলে। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডের রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মগার জানান, সমুদ্রতলে টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষের কাছে যেসব ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে, সেগুলো টাইটান সাবমার্সিবলের অংশ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিপর্যয়কর বিস্ফোরণে ডুবোযানটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রবিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময়ই ঘটেছিল বিস্ফোরণ। আর এতেই সলিল সমাধি ঘটে পাঁচ আরোহীর। এ খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের মধ্যে।

ব্রিটিশ ধনকুবের হামিশ হার্ডিংয়ের পরিবার তাকে ‘একজন নিবেদিতপ্রাণ বাবা’ অভিহিত করে বলেছে, ‘এ মর্মান্তিক ঘটনা থেকে আমাদের সামান্য সান্ত্বনা এটুকুই যে, আমরা তাকে হারিয়েছি সেইখানে, যে জায়গা তার পছন্দ ছিল।’ শাহজাদা দাউদের পরিবারের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ এশিয়ান ট্রাস্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা শাহজাদা ও তার ছেলে সুলেমানের অপূরণীয় ক্ষতির জন্য শোক প্রকাশ করছি।’

এদিকে এখন জানা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে সাবমার্সিবল বিশেষজ্ঞদের একটি সিম্পোজিয়ামে টাইটানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ওশেনগেটের সাবমেরিন বিশেষজ্ঞ ডেভিড লকরিজ ওই বছর টাইটান ডুবোযানটির নিরাপত্তা সমস্যা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথি থেকে। কিন্তু ওশেনগেট এর জবাবে ওই বিশেষজ্ঞকে বরখাস্ত করেছিল। গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে কোম্পানি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।

১৯১২ সালে ডুবে যাওয়া টাইটানিককে ফের আলোচনায় এনেছিলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার জেমস ক্যামেরন তার ‘টাইটানিক’ সিনেমার মাধ্যমে। ডুবে থাকা টাইটানিক দেখতে তিনি নিজে সেখানে ডুব দিয়েছেন ৩৩ বারের বেশি। বিখ্যাত এ চলচ্চিত্রকার বিবিসিকে বলেছেন, ডুবোযান টাইটানের বিপর্যয়কর এ পরিণতি সম্পর্কে তিনি ‘আগেই বুঝতে পেরেছিলেন’। ক্যামেরন জানান, তিনি যখন জানতে পারেন যে ডুবোযানটি একই সময়ে তার নেভিগেশন ও যোগাযোগ দুটোই হারিয়ে ফেলেছে, তখনই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছিলেন। বলছিলেন, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম কী হয়েছে। ডুবোযানটির ইলেকট্রনিক ও যোগাযোগব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, একই সঙ্গে এর ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডারও অকেজো হয়ে গেছে, তখনই বুঝেছি এটা শেষ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত