আইজিপি

আমরা রাস্তায় থাকব, আপনারা নিরাপদে গন্তব্যে যান

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩, ০৬:১৪ পিএম

বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, গত রোজার ঈদে যেভাবে মানুষ নির্বিগ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছতে পেরেছে এবং প্রত্যেক গন্তব্যে স্থানে যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা মাথায় রেখে এবারও সাজিয়েছি। তবে গত ঈদুল ফিতরের চেয়ে এবারের ঈদুল আজহায় চ্যালেঞ্জ একটু বেশি। এবার একদিকে যেমন যাত্রী সাধারণ গন্তব্যে যাবেন, অন্যদিকে পশুবাহী ট্রাক সড়ক-মহাসড়কে এবং নৌকা যাতায়াত করবে নদীতে। এ ছাড়াও যেহেতু এখন মৌসুমী ফলের সময় তাই সে গাড়িগুলোও আসবে। সব কিছু বিবেচনায় রেখেই বিভিন্নমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দপ্তর, সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রীর দপ্তর, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ডিএমপি প্রত্যেকটি জেলায় মালিক, শ্রমিকসহ সকল স্টেক হোলডারদের সাথে মিটিং করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকগণও মিটিং করছেন। আমরা সবাই এক সাথে একযোগে কাজ করছি। আশা করছি, এবারো সকলের সহযোগিতায় যথাসময়ে সমগ্র যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে যাতায়াত নির্বিগ্ন করতে সক্ষম হব।

তিনি আজ শনিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুব আলম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এ সময় হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খাঁন, ডিআইজি (অপারেশনস) মো. হায়দার আলী খান, হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি মো. মাহফুজুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহবুব আলম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, আগে মহাসড়কে যেমন খানা-খন্দ বেশি ছিল। রাস্তার অবস্থা খুব দুরাবস্থা ছিল। সে অবস্থা থেকে বর্তমান অবস্থা অনেক ভালো। উন্নয়নের অনেক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। তারপরেও ঈদে ঘরমুখে মানুষের যাত্রাপথ যাতে স্বাচ্ছন্দ হয় সে জন্য সকলে মিলে কাজ করছি। পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিআইজি, অ্যাডিশনাল ডিআইজি লেভেলের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে যাত্রীদের গমন নির্বিগ্ন করার জন্য সার্বক্ষণিক
নিয়োজিত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, এবারেও গরুর হাটের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা অটুট থাকবে। কোনো কোনো সময় দেখা যায় বিভিন্ন গরুর হাটে টানাহেঁচড়া এবং চাঁদাবাজি হয়। এ ক্ষেত্রে যদি কেউ কোনো ট্রাক বা নৌকা যে গন্তব্যে যাবে ওই গন্তব্যের আগে থামাতে চায় তাদের আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুগ্রহপূর্বক ওই কাজটি কেউ করতে যাবেন না, গেলে আইনের যে প্রয়োগ করার দরকার সেই প্রয়োগ করা হবে। গরুর হাটের ইজারাদার এবং ব্যবসায়ীরা যদি কেউ কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন নিকস্থ পুলিশের সহায়তা নিন। অথবা কাছাকাছি কাউকে না পেলে ৯৯৯ এ ফোন করুন। আপনারা আমাদের সহায়তা নিন, আমরা আপনাদের সেবায় নিয়োজিত আছি। ঈদের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যাত্রী সাধারণের যাতায়াত সুগম করার জন্য পুলিশ আপনাদের পাশে রয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি গত ঈদের মতো এবারও সকলের যাত্রাপথ সুগম রাখতে পারবো। অনেক সময় আবহাওয়ার কারেণ জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়। তারপরও যানজটের বিষয়ে যে সঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে আমরা রাস্তায় থেকে আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করব। আমরা সকলে মিলে রাস্তায় থাকব যাতে করে যাত্রী সাধারণকে স্বস্তিতে এবং নিরাপদে যথা সময়ে গন্তব্যে পাঠানো যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে জাল টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাল টাকা আইডেন্টিফিকেশনের যে মেশিন আছে তা আমাদের কাছে থাকবে। কারো যদি সহায়তা প্রয়োজন হয় আমাদের সহায়তা নিতে পারবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত