সুস্থতার যাত্রায় আগুন পুড়ে কয়লা ৮ জন

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩, ০২:০১ এএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কার পর অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এক পরিবারের ৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে তিনজন নারী ও চার শিশু রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সটির চালকেরও মৃত্যু হয়।  গতকাল শনিবার সকাল ১১টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সামনের বাম দিকের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে অ্যাম্বুলেন্সটিতে আগুন ধরে যায় বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের কর্মকর্তারা।

নিহতরা হলেন বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ফেলাননগর গ্রামের প্রবাসী আজিজার রহমানের স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৫০), তার মেয়ে কমলা বেগম (৩০), বিউটি বেগম (২৬), নাতি হাসিব (১০), হাফসা (১), আরিফ (১২) ও মেহেদি (১২) এবং অ্যাম্বুলেন্সটির চালক ফরিদপুর শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃদুল মালো (৩৫)। এর মধ্যে কমলা বেগম ঢাকায় বসবাস করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পদ্মা সেতুর ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম ফ্লাইওভারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি রেলিংয়ে ধাক্কা খায়। এ সময় গ্যাসচালিত অ্যাম্বুলেন্সটিতে চারদিক থেকে আগুন ধরে যায়। অ্যাম্বুলেন্সের চালক মৃদুল তার আসনের পাশের জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারলেও ভেতরে থাকা তিন নারী ও চার শিশুযাত্রী আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ এনে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে সাতজনের কঙ্কাল বের করেন। পরে নেওয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ, শিবচর হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ ঘটনায় পর এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় দুই ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল।

হাইওয়ে পুলিশের ফরিদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মাহবুব আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আগুন ধরে যায়। চালকের পাশের জানালাটি খোলা ছিল। এ ছাড়া সব জানালা আটকানো ছিল। চালক রক্তাক্ত অবস্থায় বের হয়ে এলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যরা কেউ বের হতে পারেননি।’

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাছলিমা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হলে এক মাস আগে ঢাকায় নিয়ে যান স্বজনরা। চিকিৎসা শেষে বড় মেয়ে কমলা বেগমের বাসায় ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন শনিবার সকালে তাছলিমা বেগম তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনি নিয়ে ঢাকা থেকে বোয়ালমারীতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে দুর্ঘটনায় সাতজনই প্রাণ হারান।

এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার ও পুলিশ সুপার মো. শাহজাহানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া মরদেহ দাফনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর নিহত তাছলিমা বেগমের বাড়ি বোয়ালমারীর ফেলাননগর গ্রামে পৌঁছালে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া এভাবে একই পরিবারের সাতজনের মৃত্যুর খবরে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারেফ হোসাইন বলেন, ‘খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। শোকাহত পরিবারটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত