প্রধান শিক্ষককে হাত-পা ভেঙে বেঁধে রাখা হয় স্কুল গেটে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৯ এএম

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নেতৃত্বে মব সৃষ্টি করে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমানকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে স্কুলের গেটে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

গত শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে। হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষকে মারপিট করে হাত-পা ভেঙে স্কুলের গেটে বেঁধে রেখে ছবি ও ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। গতকাল শনিবার ওই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

জানা গেছে পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিদ্যালয়ের আয়ার সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিরোধী পক্ষ তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য একাধিক বার আন্দোলন করে। তার জের ধরেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে স্থানীয় কিছু লোকজন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্কুলের আয়া আমেনা বেগম বলেন, ‘আমি স্কুলের গেটে তালা দিয়ে ভেতরে ঝাড়ু দিচ্ছিলাম। প্রধান শিক্ষক স্যারকে এক দল লোক বাজার থেকে মারপিট করে আহত অবস্থায় গেটে নিয়ে এসে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। আমাকে ভয়ভীতি, হুমকি-ধমকি দিয়ে গেট খুলতে বললে আমি খুলে দেই। স্যারের সঙ্গে অনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ড ঘটেনি।

প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান জানান, জিয়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে বজলু, মোতালেব, মান্নান, অরিফ, শাহাদৎ, শহীদসহ সাত থেকে আটজন মিলে লোহার রড নিয়ে আমতুলী বাজারে তার উপর হামলা চালায়। সেখান থেকে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে স্কুলের কলাপসিপল গেটের সঙ্গে পিঠ মোড়া করে বেঁধে রাখে এবং ছবি তোলে ও ভিডিও করে। পরে আয়া আমেনাকে গালাগালি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে গেটের তালা খুলে বেঞ্চে বসিয়ে দুজনকে একসঙ্গে রেখে আবার ভিডিও করে।

তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ৫ আগস্টের পরে স্থানীয় কিছু নেতা স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য একাধিক বার আন্দোলন করেছে। এখন রাজনৈতিক জের ধরেই তাকে ফাঁসানো চেষ্টা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘স্কুলের কাজের মহিলার সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসি। কোনো অভিযোগকারী না থাকায় মজিবুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্র্তি করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জিয়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল হাকিমের ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

এ বিষয়ে জিরনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক বিশ্বাস জানান, ‘ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে প্রধান শিক্ষকের উপর হামলার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নজরে এসেছে। অবৈধভাবে যদি কেউ এই ঘটনা ঘটায় তার দায় দায়িত্ব দল নেবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত