চট্টগ্রামের হাটহাজারীর উত্তর ফতেয়াবাদে প্রস্তাবিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’ প্রকল্প প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি প্রি-একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক সংলগ্ন দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজার অধীন ১০ একর ফসলি জমিতে প্রকল্পটি হবে। জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে কিছুদিন আগে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার নিরুপম চাকমা প্রকল্প এলাকার জমি মাপজোখ করে চিহ্নিত করেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পেয়ে সেদিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল আলম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু রায়হান। তবে ফসলি জমিতে প্রকল্পটি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
জানা গেছে, দেশের নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের সহজে মহাকাশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং মহাকাশবিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এই নভোথিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা পেয়ে ২০১৯ সালে প্রকল্পের ডিপিপি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে পাঠায় চট্টগ্রামের গণপূর্ত অধিদপ্তর।
হাটহাজারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু রায়হান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্পটি এখন প্রি-একনেকে আছে। শিগগির একনেকে সেটি অনুমোদন হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকল্প এলাকাটি চিহ্নিত করে মাপজোখ করে দিচ্ছি। প্রকল্পের জন্য জায়গা লাগবে ১০ একর। সেটি হতে হবে বর্গাকৃতির। আগামী কিছুদিনের মধ্যে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এবং উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার যৌথভাবে প্রকল্প এলাকার জমি চিহ্নিত এবং মাপজোখ করবে। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু হতে বছরখানেক সময় লাগবে।’
এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে জমির মালিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, তারা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধী নয়; বরং সেটি বাস্তবায়ন হলে নাগরিক এবং শিক্ষার্থীরা মহাকাশবিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফসলি জমি নষ্ট করে দেশে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে তোলা যাবে না মর্মে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে প্রকল্পটি আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের অনেকেই। সেখানকার জমির মালিকদের অভিমত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছে ফসলি জমিতে। প্রকল্প এলাকার বাইরে আরও আবাদযোগ্য ১৫ থেকে ২০ একর জমি থাকছে। সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা দরিদ্র শ্রেণির। প্রকল্প এলাকার কৃষিজমিই তাদের একমাত্র অবলম্বন। সরকার চাইলে ফসলি জমি নষ্ট না করে স্থানীয় জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজায় খাসজমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারে। এ ছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কিংবা সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকলে উত্তর ফতেয়াবাদের পশ্চিম দিক থেকে আসা বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের পানি নিষ্কাষণ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, ঢাকার পরিচালক নায়মা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রকল্পটি ফসলি জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে নাকি অনাবাদি জমির ওপর, সেটি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শোয়াইব বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্পের কাজ শুরু হতে এখনো অনেক দেরি। আগামী জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বর্তমান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো সংশয় থাকছে না। কিন্তু অন্য কোনো দল ক্ষমতায় এলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে কি না, তা যথেষ্ট সংশয় আছে। কারণ বর্তমান সরকারের আমলে জমি অধিগ্রহণের গেজেট নোটিফিকেশন হয়ে গেলে পরবর্তী সরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে সংকটে পড়বে জমির মালিকরা।
নায়মা ইয়াসমিন বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় আগ্রহী করা, জনগণের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান সম্পর্কিত ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক মনোভাব সঞ্চার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য বিভিন্ন সায়েন্টিফিক এক্সিবিটসের বৈজ্ঞানিক দিক জনগণের কাছে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন এবং তাহাদের বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করা।
