সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে সারাদেশে তারুণ্যের সমাবেশের পর এবার শ্রমজীবী মানুষের জাগরণ ঘটাতে যাচ্ছে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন শ্রমিক দল।
‘দেশ বাঁচাতে শ্রমজীবী মানুষের জাগরণ’ শীর্ষক প্রথম সমাবেশটি ১৪ জুলাই চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ১২ জুলাই শ্রমিকদের পাশাপাশি কৃষক, তাঁতি ও জেলেদের নিয়ে নোয়াখালীতে পৃথক সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় কৃষক, শ্রমিক, জেলে ও তাঁতিদের নিয়ে সমাবেশ ও পদযাত্রা সফল করতে সারাদেশে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
সমাবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে আজ রবিবার শিমুল বিশ্বাস দেশ রূপান্তররকে বলেন, রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দাবি আদায়ে ছাত্র-যুবকদের পাশাপাশি অতীতের মতো সারাদেশের শ্রমজীবী মানুষও অংশগ্রহণ করবে। বিগত ১৪ বছর ধরে অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো শ্রমিকরাও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সরকার ভোটাধিকার হরণ করে দেশের মালিকানা যেমন কেড়ে নিয়েছে, তেমনি শ্রমিক,কৃষকের পেটে লাথি মেরেছে। দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রমজীবী মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তারা। কৃষক, শ্রমিক, তাঁতি ও জেলেদের মুক্তির জন্য কাজ করছে বিএনপি। প্রথমে চট্টগ্রামে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে এখন বিভাগীয় শহরে প্রস্তুতি সভা করছি আমরা। শনিবার ময়মনসিংহে প্রস্তুতি সভা করেছি। রবিবার নোয়াখালীর সমাবেশ ও পদযাত্রা সফল করতে প্রস্তুতি সভা করেছি। এ ছাড়া আগামী ৫ জুলাই খুলনা, ৬ জুলাই নোয়াখালী ও ৭ জুলাই কুমিল্লায় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রদল-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তারুণ্যের সমাবেশ করছে। এর পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের জাগরণ শীর্ষক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শ্রমিকদের পাশাপাশি কৃষক, তাঁতি ও জেলেরা অংশগ্রহণ করবেন। এর বাইরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের আইনজীবী সমিতির নেতারা সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থক আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করছেন। তারা আদালত প্রাঙ্গণে আন্দোলন করবেন।
এর আগে গত ১৪ জুন থেকে ছাত্রদল-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা বিভাগীয় সমাবেশ শুরু করেন।
এরপর গত ১৯ জুন বগুড়া ও সর্বশেষ গত ২৪ জুন বরিশালে তারুণ্যের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া আগামী ৯ জুলাই সিলেট, ১৭ জুলাই খুলনা এবং সর্বশেষ ২২ জুলাই ঢাকায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে যেমন সাংবাদিকদের হয়রানি করছে। একইভাবে অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন করে শ্রমিকদেরও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এই আইনের মাধ্যমে দ্রুত সাজা দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তাই সকল শ্রেণি-পেশার রাজনীতিকদের পাশাপাশি আমরাও রাজপথে নামব জনগণের দাবি আদায়ে।
শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। অসহনীয় লোড শেডিংয়ের প্রতিবাদ, নিত্য পণ্যের দাম কমানো, সরকার পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে পদযাত্রাটি শাহজাদপুরের সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে থেকে শুরু হয়ে মালিবাগ আবুল হোটেল মোড় গিয়ে শেষ হয়।
