থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে প্রতিবন্ধকতা

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৩, ১২:৪২ এএম

থ্যালাসেমিয়া বিশেষ রক্তরোগ যা বংশগত।হিমোগ্লোবিন রক্তের খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা উৎপন্ন হয় দুটি আলফা ও দুটি বিটা প্রোটিন দিয়ে। সাধারণত জিনগত ত্রুটির কারণে এই প্রোটিনগুলোর উৎপাদন কমে গেলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন স্বাভাবিক হয় না এবং থ্যালাসেমিয়া রোগ দেখা দেয়। ত্রুটিপূর্ণ জিন বংশানুক্রমে বাবা-মা থেকে সন্তানদের মধ্যে সংক্রমিত হয়।

কীভাবে সংক্রামিত হয়

যদি বাবা-মায়ের মধ্যে কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক না হয়, তাহলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

বাবা অথবা মা কেউ একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক হয়ে থাকেন তবে সেক্ষেত্রে শতকরা ৫০ ভাগ সম্ভাবনা থাকে সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়ার।

যদি বাবা ও মা দুজনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে শতকরা ২৫ ভাগ সম্ভাবনা থাকে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণের, শতকরা ৫০ ভাগ সম্ভাবনা থাকে থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়ার আর বাকি ২৫ ভাগ সম্ভাবনা থাকে সম্পূর্ণ সুস্থ শিশু হিসেবে জন্মগ্রহণের।

থ্যালাসেমিয়ার বাহক আর থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত যিনি থ্যালাসেমিয়ার বাহক তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, শুধু তিনি থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করেন তার শরীরে। থ্যালাসেমিয়ার বাহক আগে থেকে চিহ্নিত করে দুজন থ্যালাসেমিয়ার বাহকের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করতে পারলে থ্যালাসেমিয়া রোগের বোঝা অনেকাংশে কমানো যায়।

সমস্যাটা হয় তখনই যখন বাহক হিসেবে চিহ্নিত করার পর কাউন্সেলিং করা হয় বাবা-মাকে। সব বোঝানোর পর যখন বলা হয় বিয়ের আগে অবশ্যই ছেলে বা মেয়ের হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফরেসিস (ঐন বষবপঃৎড়ঢ়যড়ৎবংরং) করে জেনে নিতে হবে ছেলে বা মেয়েটি এই রোগের বাহক কিনা! কারণ দুজনেই বাহক হলে তাদের বাচ্চাদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া হতে পারে।

সরকার যদি আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করে দেয় যে বিয়ের আগে প্রত্যেক ছেলে-মেয়ের হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিস করতে হবে, তাহলে ব্যাপারটা অনেক বেশি সহজ হয়ে যাবে। মানুষ জানতে পারবে থ্যালাসেমিয়ার বাহক মানে রোগ না। সে সম্পূর্ণ সুস্থ। শুধু ২ জন বাহক বিয়ে করলে তাদের বাচ্চাদের থ্যালাসেমিয়া রোগ হতে পারে। আর বাচ্চাদের কারও এই রোগ হলে কী কী সমস্যা হতে পারে সেটা আপামর জনতা জানতে পারলে তারা সতর্ক থাকতে পারবে।

এ লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি জেলায় জেলায়  হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিসের পরীক্ষার উপকরণও নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য দরকার সমন্বিত সচেতনতা ও উদ্যোগ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত