জিপিআরএস-র‌্যাডার বাঁচাতে পারেনি টাইটান

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৩, ১২:৪৪ এএম

টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দর্শন করতে গিয়ে মারাত্মক পরিণতির শিকার হলো সাবমেরিন টাইটান। ১৮ জুন প্রথম শোনা যায় আটলান্টিক মহাসাগরের ১২,৫০০ ফুট নিচে রয়েছে এই ডুবোজাহাজ। তারপর থেকে একটানা উদ্ধারকার্য চললেও বাঁচানো গেল না টাইটানকে। অক্সিজেন সাপ্লাই শেষ হওয়ার আগে অভিযাত্রীদের কাছে পৌঁছতে চেয়েছিল উদ্ধারকারী দল। কিন্তু যাবতীয় প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাঁচানো গেল না টাইটানকে। কাজ করল না জিপিএস এবং র‌্যাডার। এই দুই প্রযুক্তি যদি কাজে দিত তাহলে হয়তো অনেক আগেই সাবমেরিনের খোঁজ পেয়ে যেত মার্কিন কোস্টগার্ড।

পানির নিচে কেন কাজ করে না জিপিএস?

ভূপৃষ্ঠের ওপর কাজ করলেও পানির নিচে কাজ করে না জিপিএস। এর কারণ হলো আণবিক স্তর। প্রতি ঘন ইঞ্চি বায়ুম-লে উপস্থিত ৪.৪দ্ধ১২০০ অণু। যেখানে পানিতে প্রতি ঘন ইঞ্চিতে রয়েছে ৫দ্ধ১০২৩ অণু। যার ফলে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গগুলো ব্যবহার করে জিপিএস এবং র‌্যাডার তা পানি শোষণ করে নেয়।

ঠিক একই কারণে সূর্যের আলো সমুদ্রের একদম গভীরতম স্থানে পৌঁছতে পারে না কারণ সূর্যের আলোতেও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ রয়েছে। তবে যোগাযোগ রাখার জন্য আরও একটি বিকল্প উপায় ব্যবহার করা হয় জাহাজগুলোতে।

এই উপায়ের নাম হলো সোনার (সাউন্ড নেভিগেশন অ্যান্ড রেঞ্জিং)। যেখানে শব্দের সংকেত ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখা হয়। পানির গভীরে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ না পৌঁছলেও শব্দের সংকেত পানির মধ্যে হারায় না। শব্দ তার সংকেত না হারিয়েই হাজার হাজার কিমি ভ্রমণ করতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে।

সোনার প্রযুক্তিতে শব্দ তরঙ্গের তারতম্য শনাক্ত করে উক্ত বস্তু বা ডুবোজাহাজের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। জানা গিয়েছে, টাইটান সাবমেরিনের জন্য যে জাহাজ এবং বিমান উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে তারাও এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে দেখেছে। সোনার প্রযুক্তি পানির তলায় নেভিগেশনের কাজ করলেও সমুদ্রের একদম গভীরে এটি পৌঁছতে পারে না। সংবাদমাধ্যমে ওয়্যারড-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সোনার-এ যে ইকুইপমেন্ট রয়েছে তা সর্বোচ্চ ৬,৬০০ ফুট পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তাই টাইটানকে ধরা এই প্রযুক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। ফলাফল টাইটানে যে ৫ অভিযাত্রী গিয়েছিলেন ১১১ বছর পুরনো অতিকায় প্রমোদতরীর ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে তারা সবাই মারা গেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত