হিমালয়ের কোলে, হিমাচল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের স্টেডিয়াম ধর্মশালা। ছবির মতো সুন্দর এই স্টেডিয়াম থেকে দেখা যায় হিমালয়ের শৈলচূড়া। এখানেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ৭ অক্টোবর শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান। এই আসরকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন বাংলাদেশের ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমীদের। তবে বাংলাদেশের জন্য ১৯ নভেম্বর আহমেদাবাদে শিরোপা উৎসবে মেতে ওঠার পথটা হিমালয় জয় করার মতোই কঠিন, শুরুর ম্যাচের ভেন্যুটা কী সেই আভাসই দিয়ে রাখল!
মঙ্গলবার মুম্বাইতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৩ বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করেছে আইসিসি। বিশ্বকাপ আসর শুরুর ঠিক ৯৯ দিন আগে প্রকাশ করা হলো সূচি, যেখানে ১০টি দল ৫ অক্টোবর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৪৬ দিন ধরে ৪৯টা ম্যাচে মুখোমুখি হবে শিরোপা জয়ের জন্য। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড আর রানার্স আপ নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হবে প্রথম ম্যাচেই। চার বছর আগে লর্ডসে টানটান উত্তেজনার ফাইনালে সুপার ওভারে বাউন্ডারির সংখ্যায় এগিয়ে থেকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। আহমেদাবাদে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইতে তারা শুরুতেই প্রতিপক্ষ পাচ্ছে সেই কিউইদেরই। আসর শুরুর তৃতীয় দিনে, ৭ অক্টোবর ধর্মশালায় কাবুলিওয়ালাদের বিপক্ষে শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান। ১০ অক্টোবর একই মাঠে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এরপর হিমালয়ের কোল ছেড়ে বঙ্গোপসাগরের পাড়ে পা রাখবে বাংলাদেশ, চেন্নাইতে ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের। পরের গন্তব্য পুনে। সেখানে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ১৯ অক্টোবর খেলবে বাংলাদেশ। এরপর ২৪ অক্টোবর আরব সাগর পাড়ের মুম্বাইতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৮ অক্টোবর কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ খেলবে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা শীর্ষ দলের বিপক্ষে। আইসিসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব উৎরে যায় তাহলে তারাই হবে কোয়ালিফায়ার ওয়ান। তবে এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই হুমকির মুখে। সেক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ হতে পারে জিম্বাবুয়ে। পশ্চিম বাংলায় বেশ কিছুদিন থাকতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের, কারণ এখানেই পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের পরের ম্যাচ ৩১ অক্টোবর। কলকাতা থেকে পরের গন্তব্য দিল্লি, সেখানে অপেক্ষায় থাকবে শ্রীলঙ্কা। আইসিসি জানিয়েছে, উৎরে গেলে শ্রীলঙ্কাই হবে কোয়ালিফায়ার টু। এরপর বেশ লম্বা অপেক্ষা। ১২ নভেম্বর বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুনেতে। এরপরের পথটা বাংলাদেশকে লিখতে হবে নিজেদের মাঠের খেলা দিয়ে। হয় পুনে থেকে ঢাকার ফ্লাইট, নাকি কলকাতা অথবা মুম্বাই হয়ে আহমেদাবাদ সেটা ঠিক করে দেবে ১০টা ম্যাচের ফল।
বিশ্বকাপ নিয়ে রোমাঞ্চিত বাংলাদেশের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। আইসিসির কাছে বিশ্বকাপ সূচি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে তামিম বলেছেন, ‘এটাই হচ্ছে সেরা আসর, আইসিসির ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের মতো রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা কোনো আসরেই দেখা যায় না। সাদা বলে এটাই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় মঞ্চ যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে ম্যাচ অ্যাওয়ারনেস আর টেম্পারমেন্টের পরীক্ষা দিতে হয়।’ টানা দ্বিতীয়বারের মতো হতে যাচ্ছে ১০ দলের বিশ্বকাপ, যেখানে সবগুলো দলই একবার করে মুখোমুখি হবে সব প্রতিপক্ষের। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক তামিমের, এই নিয়ে খেলতে যাচ্ছেন পঞ্চম বিশ্বকাপ। অভিজ্ঞ এই বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জানালেন, ‘বিশ্বকাপের কাঠামোটাই এমন যে এখানে ঢিল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি প্রতিপক্ষই কঠিন, এই আসরে কোনো সহজ ম্যাচ নেই।’ ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়েছিল ভারতে, সেখানেই বাছাই পর্বে টি-টোয়েন্টিতে একমাত্র আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি তামিমের। ভারতে খেলার সুখস্মৃতি মনে করে বলেছেন, ‘ভারতে খেলাটা সবসময় উপভোগ্য। দারুণ পরিবেশ, অসাধারণ সব স্টেডিয়াম আর ক্রিকেট ভক্তরাও খেলার অনেক খোঁজখবর রাখে। আমরা যখনই ভারতে খেলেছি সবসময় দারুণ সমর্থন পেয়েছি।’
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশ, সেই নকশায় অনেক কিছুই বদলেছে। তামিম জানালেন দল নিয়ে তার প্রত্যাশার কথাও, ‘যে দলটাকে নিয়ে আমরা বিশ্বকাপে যাব, তাদের ওপর আমার অনেক প্রত্যাশা। আমরা ওয়ানডেতে অনেক ভালো করছি আর বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আমরা শীর্ষ দলগুলোর একটি। দলে তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার ভালো মিশেল আছে, কন্ডিশনও আমাদের চেনা।’
বিশ্বকাপে লিগ ম্যাচ ৪৫টি, এর ভেতর ৬টি হবে ডে-ম্যাচ আর বাকিগুলো ডে-নাইট। বাংলাদেশের ১০টি ম্যাচের ৩টি হবে ডে-ম্যাচ অর্থাৎ খেলা শুরু হবে ভারতীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। ধর্মশালায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে, চেন্নাইতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আর পুনেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচগুলো শুরু হবে সকালে। বাকি ম্যাচগুলো আবহাওয়াজনিত বিঘ্ন না ঘটলে শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায়।
কেটে গেছে পাকিস্তানের ভারতে খেলতে আসা নিয়ে শঙ্কাও। আসছে পাকিস্তান, ১৫ অক্টোবর আহমেদাবাদে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। সেমিফাইনালের দুই ভেন্যু কলকাতা ও মুম্বাই। পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠলে খেলবে কলকাতায়, ভারত যদি পাকিস্তানের মুখোমুখি না হয় তাহলে সেমিফাইনাল খেলবে মুম্বাইতে। ১৯ নভেম্বর ফাইনাল হবে আহমেদাবাদে।
