বরিশালের পশুর খামারগুলোতে চলতি মাসের শুরু থেকেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। এতে তাদের পশু বিক্রি শেষপর্যায়ে। বরিশাল নগরীসহ আশপাশের খামারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছরের তুলনায় এবার খামারে বিক্রি ভালো হচ্ছে। চলতি বছর কোরবানির হাট জমতে না জমতেই খামারগুলোতে বিক্রি শেষপর্যায়ে। তারা এখন পশু ডেলিভারি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে খামারে দেশি, শাহিওয়াল ও ফিজিশিয়ান গরু পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ৭৫ থেকে ৫৫০ কেজি ওজনের পশু বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৭৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন লাখ টাকায়। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পশুপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা গরুর বিক্রির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খামার মালিকরা।
বরিশাল নগরীর লাকুটিয়া সড়কের মুখার্জি বাড়ি পুলসংলগ্ন সাদ সাইদ অ্যাগ্রোতে দেখা যায়, বিভিন্ন দামের গরু সারিবদ্ধভাবে খামারে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এবার কোরবানির জন্য খামারটিতে ৯০টির বেশি গরু সংগ্রহে রাখা হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি আবার অনেক বড় গরুও রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে এসব গরু বুকিং হয়ে গেছে বলে জানায় খামার কর্তৃপক্ষ।
সাদ সাইদ অ্যাগ্রো খামারটির পরিচালক মো. মিরাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এখানে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে ও হালাল উপায়ে গরুগুলো কালেকশনে রেখেছিলাম। এ ছাড়া কাস্টমারের কথা বিবেচনা করে ছোট-বড় সব ধরনের গরু আমাদের খামারে ছিল। খামারে ৬০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত সব ধরনের গরু রয়েছে। ক্রেতারা চিন্তা করেন সাধ্যের মধ্যে দাম আর ভালো মানের গরু, যা আমাদের এখানে ছিল, তাই এখন পর্যন্ত ৯৫ পার্সেন্ট গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা এখন ডেলিভারি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে হাটে গিয়ে গরু কিনলে ক্রেতার অতিরিক্ত টাকা এবং গরু এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিতে ঝামেলায় পড়তে হয়। আর এসব ঝামেলা ছাড়াই খামার থেকে ক্রেতারা গরু কিনতে পারছেন বলে মনে করেন এই খামারি।
অন্যদিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রহমতপুর দোহারিকা সেতু থেকে হাতের ডান পাসে বরিশাল জনপদের মধ্যে সব থেকে বড় পশুর খামার এমইপি অ্যাগ্রো। এখানে ৩০০-এর চেয়ে বেশি গরু কোরবানি উপলক্ষে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে ৩২ মণেরও একটি গরু আছে। শখ করে যার নাম রাখা হয়েছে ‘টাইটেনিক’। প্রতিষ্ঠানটি গরুটির দাম হাঁকিয়েছে আট লাখ টাকা। এ ছাড়া এই ফার্মে ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে আট লাখ টাকা পর্যন্ত গুরু, ছাগল সংগ্রহে রাখা হয়েছে। এমইপি অ্যাগ্রো তাদের ৭৫ ভাগ গরু বিক্রি করেছে বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ফার্মের ম্যানেজার মো. রাফিউর রহমান।
এমইপি গ্রুপের পরিচালক ফাহিম চাকলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাটের সঙ্গে খামারের আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সবার জন্য হাট না। সবার পক্ষে যাওয়াটা অনেক কষ্ট। কিন্তু অ্যাগ্রো এই ক্ষেত্রে ভিন্ন। ঘরে নারী সদস্যসহ অ্যাগ্রোতে এসে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই পশু পছন্দ করে কিনতে পারেন।’
ক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে শহরের যান্ত্রিক জীবনে পশু কিনে স্থানান্তর করা মুশকিল। আর আগেভাগে কোরবানির পশু কিনে পরিচর্যা করার মতো লোকবল কম থাকায় তারা ঝামেলায় যেতে চাচ্ছেন না। তাই পশুর হাটের বিড়ম্বনা এড়াতেই বর্তমানে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন খামারগুলোতে। এতে তারা নিরাপদ পশু কিনতে ঠকবেন না বলেও জানান অনেক ক্রেতা।
বরিশাল নগরীর কাগাশুরা, রূপাতলী, চরমোনাই, জেলার বানারীপাড়া উপজেলার গুয়াচিত্রাসহ কয়েকটি হাটে কিছু ক্রেতার সমাগম রয়েছে। তবে অধিকাংশ হাটে কোরবানির পশু ও ক্রেতাশূন্য। যে কটি গরু উঠেছে তার দামও গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। এবার বরিশালে ৬৩টি কোরবানির পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে এসব হাটে আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর থেকে গরু আসছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল আলম জানান, বরিশালে এবার চাহিদার বেশি কোরবানির পশু রয়েছে। তাদের হিসাবে চলতি বছরে বরিশালে ৯০ হাজার ৯২৮টি কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে জেলায় ৬ হাজার ৪৩০টি খামারে কোরবানির পশু রয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৪০৮টি। তবে এবার কোরবানির পরও পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
