সশস্ত্র বিদ্রোহের পর ওয়াগনার যোদ্ধাদের সামনে তিনটি বিকল্প দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। স্থানীয় সময় গত সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পুতিন বিকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করেন। ওই ভাষণে পুতিন অবশ্য বিদ্রোহ থেকে সরে যাওয়ায় ওয়াগনার যোদ্ধাদের ধন্যবাদও জানান।
এদিকে ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন আবারও দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের পতন ঘটাতে তার সেনারা মস্কো অভিমুখে যাত্রা করেনি বরং তারা ওয়াগনারের ধ্বংস এড়াতে চেয়েছিল। তার দাবি, ন্যায়বিচারের জন্য ওয়াগনারের এই পদযাত্রার লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট পুতিনকে উৎখাত করা ছিল না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, পুতিনের ভাষণ অনুযায়ী, প্রথম বিকল্প হলো ওয়াগনার যোদ্ধাদের রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে দেশের সেবা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় বিকল্প হলোÑ ওয়াগনার যোদ্ধারা চাইলে তাদের পরিবার-পরিজন-বন্ধুদের কাছে ফিরতে পারবেন। আর তৃতীয় বিকল্প হলোÑ কেউ চাইলে রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ বেলারুশে চলে যেতে পারবেন। যেখানে তাদের নেতা ইয়েভগেনি প্রিগোজিন গিয়েছেন।
চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র কাঁপিয়েছে ভাড়াটে সৈন্যদল ওয়াগনার। দনবাস নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তাদের হাত ধরেই ইউক্রেন যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হয়ে ওঠা বাখমুত শহর দখল নেয় রাশিয়া। তবে গত শুক্রবার বিশ্বকে চমকে দিয়ে বিদ্রোহের ঘোষণা দেন ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিন। সেদিন ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিন রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ-অন-ডন শহর তার নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেন। পরে রওনা দেন মস্কো অভিমুখে। দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান সের্গেই শুইগু এবং সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভকে উৎখাতের হুমকিও দেন। ওই ঘটনার পরদিন শনিবার ওয়াগনার গ্রুপকে ‘বিশ্বাসঘাতক বিদ্রোহী’ আখ্যা দেন পুতিন। বলেন, ওয়াগনার বাহিনী যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা আসলে রাশিয়ার পিঠে ছুরি মারার শামিল। এজন্য প্রিগোজিন ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসঘাতকদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। অবশ্য ওয়াগনার গ্রুপের সেনারা যখন মস্কো থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে তখনই বেলারুশের মধ্যস্থতায় পিছু হটে ওয়াগনার যোদ্ধারা। প্রিগোজিন চলে যান মিনস্কে।
এরপর পুতিন গত সোমবার প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। সিএনএন জানিয়েছে, রাশিয়ার স্থিতিশীলতা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা দেওয়া এই বিদ্রোহ থেকে সরে যাওয়ায় ওয়াগনার গ্রুপের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। পুতিন বলেন, আমি ওয়াগনার গ্রুপের সেই সেনা ও কমান্ডারদের ধন্যবাদ জানাই, যারা একমাত্র সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারা ভ্রাতৃঘাতী রক্তপাতে যায়নি, শেষ মুহূর্তে তারা থেমে গেছে।
পাঁচ মিনিটের বক্তৃতায় পুতিন অবশ্য ওয়াগনার বাহিনীর প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের নাম উচ্চারণ করেননি। তবে মস্কোতে বিদ্রোহের অবসান ঘটিয়ে রাশিয়া ছেড়ে বেলারুশে যেতে সমঝোতার খবরের পর সোমবার এক অডিও বার্তা দেন প্রিগোজিন। অডিওবার্তায় প্রিগোজিন জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের পতন ঘটাতে তার সেনারা মস্কো অভিমুখে যাত্রা করেনি বরং তারা ওয়াগনারের ধ্বংস এড়াতে চেয়েছিল। ন্যায়বিচারের জন্য ওয়াগনারের এই পদযাত্রার লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট পুতিনকে উৎখাত করা ছিল না।
ওয়াগনার বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটোর সম্পৃক্ততা নেই :
ওয়াগনার বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্র বা সামরিক জোট ন্যাটোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বাইডেন বলেছেন, ওয়াগনার যোদ্ধারা মূলত ভেতরগত কোনো দ্বন্দ্বের কারণে এই বিদ্রোহ করেছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বাইডেন বলেন, তিনি জুমের মাধ্যমে একটি ভিডিও কলে মিত্রদের সঙ্গে কথা বলেন, সেখানে তারা এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন যে এ বিদ্রোহের বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমিরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না।
