চট্টগ্রাম নগরীর একটি বাড়িতে সার্চ ওয়ারেন্ট (তল্লাশি পরোয়ানা) বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই গভীর রাতে অভিযান চালানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গত ২১ জুন রাত ১টার দিকে বন্দর থানা পুলিশের এসআই মহসিন সর্দারের নেতৃত্বে ওই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন বাড়িটির মালিক মো. ফিরোজ। এ ছাড়া তাকে না পেয়ে এসআই মহসিন তার স্ত্রীর সঙ্গে অসদাচরণ এবং বাসার আসবাবপত্র তছনছ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন ফিরোজ।
বাড়ির ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ফিরোজ ও ইমরান খান ইমু নামে এক যুবককে আসামি করে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন কামাল উদ্দীন নামে এক প্রবাসী।
ফিরোজের স্ত্রীর অভিযোগ, মিথ্যা অভিযোগে করা চাঁদাবাজির ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাবন্দি আছেন ইমরান খান ইমু। মামলাটি হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগেই তার বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাকে হেনস্তা করা হয়। স্বামী ফিরোজকে আটক করতে ব্যর্থ হয়ে পরের দিন তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে আছেন ফিরোজ।
কামাল উদ্দীনের নগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় বাসা রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটার মাওলানা গ্রামে। বাবার নাম মৃত হাজি আহমেদ মিয়া কমান্ডার। আর ফিরোজ মধ্যম হালিশহর আহমদ মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে। একই এলাকার মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে বর্তমানে কারাবন্দি ইমরান খান ইমু (৩৮)।
সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া গভীর রাতে ফিরোজের বাড়িতে অভিযান চালানোর বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বন্দর থানার এসআই মহসিন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেদিন আমি ছাড়াও ফিরোজের বাড়িতে অভিযানে আরও পুলিশ অংশ নেয়। ফিরোজের স্ত্রীকে কোনো প্রকার হেনস্তা করা হয়নি।’ মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগেই ফিরোজের বাসায় অভিযান চালানোর কারণ জানতে চাইলে উত্তর এড়িয়ে যান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
জান্নাতুল ইদ্রিস সুমাইয়ার অভিযোগ, স্বামীর অংশ দাবি থেকে সরে আসতে তার ছেলে এবং ফিরোজের বিরুদ্ধে ২২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগে মামলা করেছেন কামাল উদ্দীন। ফিরোজের দাবি, জায়গার মালিকানা কামাল উদ্দীনের হলেও ৩০-৩৫ লাখ টাকা খরচ করে সেখানে মৌখিক চুক্তিতে ভাড়া দেওয়ার জন্য ঘর নির্মাণ করেন। প্রতি মাসে ভাড়া তুলে কামাল উদ্দীন এবং তার স্ত্রীকে দিয়েছেন। ঘর নির্মাণের খরচ দাবি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করেছেন কামাল উদ্দীন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কামাল উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফিরোজের কাছে ১০ বছরের ঘরভাড়া বাবদ প্রায় ৩১ লাখ টাকা পাওনা আমার। টাকা চাইতে গেলে ফিরোজ ও ইমরান আমাকে মারধর করে। উল্টো আমার কাছে ২২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা আমার অনেক ক্ষতি করেছে।’
