ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে সাগর নন্দিনী-২ নামে একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে শহরের পৌরসভা খেয়াঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ পাঁচজন হলেন শাকিল (৩৫), ফরিদুল আলম (৫০), ইকবাল হোসেন (২৭), বেলায়েত হোসেন (৩৫) ও মাইনুর ইসলাম হৃদয় (২৯)। তারা সবাই জাহাজের কর্মী।
ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে দগ্ধদের জাহাজ থেকে উদ্ধার করে। তবে চারজনের খোঁজ মেলেনি। তাদের উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি চালায় ফায়ার সার্ভিস।
দগ্ধদের ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাহাজটি বুধবার ঝালকাঠি শহরের সুগন্ধা নদীর পাড়ে তেলের ডিপোতে তেল খালাস করার জন্য (পেট্রোল ও ডিজেল) আসে।
ঈদুল আজহার বন্ধের কারণে তেল খালাস করতে না পেরে সুগন্ধা নদীর দক্ষিণ পাড়ে নোঙর করে রাখে জাহাজটি এবং দুপুরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে পুরো জাহাজে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঝালকাঠি, রাজাপুর, নলছিটি ও বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় তারা।
ঝালকাঠি পদ্মা অয়েল কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজটি প্রায় ১০ লাখ লিটার পেট্রোল এবং ডিজেল নিয়ে ঝালকাঠির পদ্মা অয়েল কোম্পানির সামনে সুগন্ধা নদীতে বুধবার নোঙর করে। গতকাল বিকেলে জাহাজ থেকে তেল খালাস করার কথা ছিল। বিস্ফোরণে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমের তলা ফেটে সন্ধ্যা থেকে ডুবতে শুরু করেছে।
ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম, পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিতুল ইসলাম ও ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মুহিতুল ইসলাম বলেন, ঠিক কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। জাহাজটিতে মাস্টারসহ ৯ জন কর্মচারী ছিলেন।
