গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে লুকিয়ে থাকা গ্রাম

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৩, ১২:০৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সুপাই গ্রামে এক হাজার বছর ধরে বাস করছেন নেটিভ আমেরিকানরা। অত্যন্ত দুর্গম ওই গ্রামে হেঁটে বা হেলিকপ্টারে করে যেতে হয়। চিঠি আদান-প্রদান করা হয় খচ্চরের মাধ্যমে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুপাই গ্রাম নিয়ে লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া    

দুর্গম গ্রাম

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখতে প্রতি বছর ৫৫ লাখের মতো পর্যটক ভিড় করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনই বুঝতে পারেন, ওই গিরিখাতের তিন হাজার ফুট গভীরে লুকিয়ে আছে ছোট্ট একটি গ্রাম। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দূরবর্তী ওই গ্রামের নাম সুপাই। এটি এতটাই বিচ্ছিন্ন যে আট মাইল দূরে গেলে পরে একটি সড়কের দেখা মিলবে। হেলিকপ্টার বা খচ্চরে টানা গাড়িতে করে সুপাইয়ে যেতে হয়। পায়ে হেঁটেও গ্রামটিতে পৌঁছানো সম্ভব তবে তা বেশ কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ আট মাইলের উঁচু-নিচু পথ ধরে হাঁটার সময় যে কারোর মাথা ঘুরতে পারে। সুপাইয়ে ঠিক কতজন মানুষ বাস করে জানতে চাইলে একেকজন একেক রকম উত্তর দেবেন। কেউ বলবেন ৩০ হাজার, কেউ বা বলবেন ৫০ হাজার। কিন্তু তারা যখন শুনবেন, সুপাইয়ে মাত্র ২০৮ জনের বাস, তখন বিস্ময়ে তাদের হতবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। গ্রামটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়, টাইম মেশিনে করে বুঝি প্রাচীন যুগে ফিরে যাওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো সড়ক নেই। নেই কোনো গাড়িঘোড়া। গ্রামবাসীরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে খচ্চর ও ঘোড়া ব্যবহার করেন। হাতের কাছে যা কিছু পান, তাই দিয়ে তারা বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন। এখানে রয়েছে একটি জেনারেল স্টোর, ক্যাফে, পোস্ট অফিস, প্রাইমারি স্কুল, পরিপাটি হোটেল ও দুটি গির্জা। নেটিভ আমেরিকান জাতিগোষ্ঠী হাভাসুপাই গ্রামটিতে বাস করা মানুষদের পূর্বপুরুষ। বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের একটি গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে হাভাসুপাইরা বসবাস করছেন এক হাজার বছরের বেশি সময় ধরে। পূর্বপুরুষদের মতো তারাও ভুট্টা, কুমড়ো ও শিম উৎপাদন করেন। হাভাসু অর্থ নীল-সবুজ পানি আর পাই অর্থ মানুষ। হাভাসুপাই আদিবাসীদের ভাষার নামও হাভাসুপাই। কষ্টেসৃষ্টে কোনোমতে গ্রামটিতে পৌঁছাতে পারলে ওই ভাষার সঙ্গে পরিচিতি ঘটবে। এছাড়া কান পাতলে শোনা যাবে গ্রামটিকে ঘিরে থাকা ঝরনা ও খাঁড়িতে বয়ে যাওয়া পানির কলকল ধ্বনি।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে প্রতি বছর ৯ ইঞ্চির কম বৃষ্টিপাত হয়। সুপাই গ্রামে রয়েছে দুটি জলপ্রপাত। একটির নাম হাভাসু আর আরেকটির নাম মুনি। এই দুই জলপ্রপাতের পানি আসে ভূগর্ভস্থ একটি প্রস্রবণ থেকে। স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, ওই প্রস্রবণ ৩০ হাজার বছর পুরনো। জীবন রক্ষাকারী হাভাসু ও মুনি জলপ্রপাতের কল্যাণে মরুভূমিতে হাভাসুপাইরা বেঁচে আছেন শত শত বছর ধরে। ওই দুই জলপ্রপাতের নিচে জলাশয়ের পানির রঙ ফিরোজা। জলাশয়ের পানির মনোমুগ্ধকর রঙ দেখে স্বভাবতই অভিভূত হয়ে পড়েন পর্যটকরা। দীর্ঘ সময় ধরে কেউ জানতেন না, জলাশয়ের পানির এমন অপার্থিব রঙের কারণ কী। অনেক পরে বিজ্ঞানীরা ওই অঞ্চল খনন করে রহস্যের জট খোলেন। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ও জলপ্রপাতের গভীরে রয়েছে চুনাপাথর। চুনাপাথর মিশ্রিত প্রস্রবণের জল যখন বায়ুর সংস্পর্শে আসে, তখন এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়ে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট উৎপন্ন হয়। যৌগটি সূর্যের আলোয় প্রতিফলিত হওয়ার ফলে জলাশয়ের পানির উপরিভাগ ফিরোজা বর্ণের হয়ে যায়। 

পণ্য সরবরাহ

সুপাইয়ে যাওয়ার যেহেতু কোনো সড়ক নেই, তাই দুভাবে সেখানে দরকারি জিনিসপত্র পৌঁছানো হয়। একটি গিরিপথ দিয়ে হেঁটে আর অন্যটি হেলিকপ্টারে করে। প্রথমটিই সবচেয়ে সস্তা ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চিঠি বা পার্সেলের জন্য গ্রামবাসী খচ্চরের ওপর নির্ভরশীল। সপ্তাহে ছয় দিন একজন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে কয়েকটি খচ্চর গিরিখাতের নিচে তিন ঘণ্টা ও ওপরে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করে। সুপাই গ্রাম থেকে ৭৫ মাইল দূরে আরিজোনার মোহাভ কাউন্টির পিচ স্প্রিংস এলাকার একটি গ্রাম থেকে খচ্চরগুলো যাত্রা শুরু করে। ভোরে সূর্য ওঠার আগে তারা সুপাই গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। পশুগুলোর পিঠে চিঠি-পার্সেল ছাড়াও বোঝাই করা হয় খাবার, ওষুধপত্রসহ অন্যান্য পণ্য। সুপাই গ্রামের মানুষ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অস্তিত্ব এসব পণ্য আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। প্রতিদিন খুব ভোরে ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিস (ইউএসপিএস) গ্রামবাসীদের অর্ডার করা খাদ্য, ওষুধপত্র থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য একটি ট্রাকে বোঝাই করে। সেসব পণ্য এক ঘণ্টা পর গিরিখাতের কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে পণ্যগুলো খচ্চরের পিঠে বোঝাই করে সুপাই গ্রামের পোস্ট অফিসের উদ্দেশে রওনা করানো হয়।  

পর্যটনশিল্প

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের আঁকাবাঁকা গিরিপথের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেন হাভাসুপাইরা। মিশনারি থেকে শুরু করে খনিতে কাজ করা মানুষ, বণিক থেকে শুরু করে আদিবাসী, কৌতূহলী ভ্রমণকারী সবাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ধুলো-ধূসরিত গিরিপথ দিয়ে সুপাই গ্রামে পৌঁছান। ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গিরিপথটি পর্যটকদের নজরে আসে এবং অচিরেই সুপাই গ্রাম একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত করে। বছরে এখন ২০ হাজারের বেশি পর্যটক পায়ে হেঁটে, খচ্চরে চড়ে বা হেলিকপ্টারে করে সুপাই গ্রামে প্রবেশ করেন। অবশ্য এজন্য তাদের প্রত্যেককে হাভাসুপাই ট্রাইবাল কাউন্সিল থেকে বিশেষ অনুমতি নেওয়া লাগে। ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত পর্যটকরা সুপাই গ্রামের সেই পরিপাটি হোটেলে থাকতে পারেন। পাশাপাশি তারা চাইলে বাইরে সারা রাত খোলা আকাশের নিচে ক্যাম্পিংও করতে পারেন। সেক্ষেত্রেও অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পায়ে হেঁটে সুপাইয়ে যেতে রাজি নন, তারা হেলিকপ্টারে চড়তে পারেন। সেক্ষেত্রে তাদের সময় লাগবে মাত্র চার মিনিট।

পশুদের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’

গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষাকারী সংগঠনগুলো সুপাই গ্রামের একটি বিষয়ে অভিযোগ করে আসছেন। তাদের ভাষ্য, দরকারি জিনিসপত্র সরবরাহ ও পর্যটকদের জন্য যেসব ঘোড়া ও খচ্চর ব্যবহার করা হয়, সেগুলো অমানবিক আচরণের শিকার। স্টপ অ্যানিমেল ভায়োলেন্স নামে স্থানীয় এক সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা সুজান অ্যাশ বলেন, ‘সমস্যাটির জন্য ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিস (ইউএসপিএস) খুব একটা দায়ী নয়। পশুদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ মূলত ওই স্থানীয়রাই করেন যারা বেশি লাভের আশায় তাদের মাত্রাতিরিক্ত খাটান। খচ্চর বা ঘোড়াদের দিয়ে দৈনিক কতটা পরিশ্রম করানো উচিত, এ নিয়ে কোনো নিয়মনীতি নেই। ওই অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায়ই ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট অব্দি যায়। যারা পশুদের দায়িত্বে থাকেন, তাদের কয়েকজন ওই অত্যধিক গরমের মধ্যে ঘোড়া ও খচ্চরগুলোকে চার ঘণ্টা যাওয়া আর চার ঘণ্টা আসা এই আট ঘণ্টা খাটান, কোনো পানির ব্যবস্থা না করে। এসব পশু একপর্যায়ে পানি খেতে না পেয়ে মারা যায়।’ এ বিষয়ে আদিবাসীদের ভাষ্য, পশুদের সঙ্গে অহরহ অমানবিক আচরণ করা হয়, তা ঠিক নয়। তবে ব্যতিক্রমী ঘটনা যে একেবারেই ঘটে না, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। হাভাসুপাই ট্রাইবাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি বনি ওয়েসকোগেন বলেন, ‘ঘোড়া-খচ্চরের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ বন্ধে সম্প্রতি একটি দল গঠন করা হয়েছে। তাদের কাজ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত সব পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।’

জমির মালিকানা

উত্তর আমেরিকায় ইউরোপীয়রা বসতি স্থাপনের আগে ১৬ লাখ একর অঞ্চলজুড়ে হাভাসুপাইদের বসবাস ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের সমান। ওই অঞ্চলের চিত্তাকর্ষক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খনিজ সম্পদে আকৃষ্ট হয় লুণ্ঠনকারীরা। ১৮৮২ সালের মধ্যে হাভাসুপাইদের এলাকা ১৬ লাখ একর থেকে সংকুচিত হয়ে মাত্র ৫১৮ একরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। হাভাসুপাইরা তাদের পূর্বপুরুষের জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন আইনি লড়াই চালান। ১৯০৮ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সাতবার মার্কিন কংগ্রেসে আবেদন করেন তারা। ১৯১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের অংশ করলে বহু হাভাসুপাই কৌশলগতভাবে ওই পার্কের কর্মচারীতে পরিণত হন। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের গাইড হিসেবে পর্যটকদের সামনে তারা নিজেদের এলাকার সৌন্দর্য তুলে ধরেন এবং একই সঙ্গে আশা করেন, একদিন তারা তাদের পূর্বপুরুষের জমি ফিরে পাবেন।       

১৯৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড একটি প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় স্বাক্ষর করেন। তাতে বলা হয়, হাভাসুপাইরা তাদের ৫১৮ একর এলাকার বাইরে আরও ১ লাখ ৮৫ হাজার একর জমির নিয়ন্ত্রণ পাবেন। পাশাপাশি ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তত্ত্বাবধানে থাকা ৯৫ হাজার একর জমিও ব্যবহার করতে পারবেন ওই আদিবাসীরা। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের নিচে এখন যেমন হাভাসুপাইদের দেখা যায়, তেমনি প্রতি বছর শীতকালে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ওপরের মালভূমি ও পাইন বনে তারা নিয়মিত যাতায়াত করেন। ওই মালভূমি ও পাইন বনে একসময় শিকারের উদ্দেশে যেতেন তাদের পূর্বপুরুষরা। হাভাসুপাইরা সার্বভৌম জাতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বীকৃতি পায় খুব বেশিদিন আগে নয়। একই সঙ্গে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও অধিকার দেওয়া হয়। তাদের রয়েছে সাত সদস্যের একটি কমিটি যার নাম হাভাসুপাই ট্রাইবাল কাউন্সিল। ওই সাত সদস্য গ্রামবাসী দ্বারা নির্বাচিত। স্থানীয় আইন থেকে শুরু করে সুপাই গ্রামে কারা প্রবেশ করতে পারবেন আর কারা পারবেন না অভ্যন্তরীণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার ওই কমিটির আছে।

হুমকি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আকস্মিক বন্যা হাভাসুপাইদের সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৮ ও ২০১০ সালে টানা বৃষ্টিপাত তাদের বাড়িঘর ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে পড়ে যে, ওই দুই বছরই শত শত পর্যটককে সুপাই গ্রাম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০১০ সালে সুপাই গ্রামকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করা গিরিপথ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১১ সালের শুরুতে হাভাসুপাই ট্রাইবাল কাউন্সিল ও আরিজোনা গভর্নর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানায়। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাভাসুপাইদের ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ত্রাণ দেওয়া হয়। বন্যা ও ফ্রন্টিয়ার্সমেন (যারা আবাদি জমি ও অনাবাদি জমির সীমান্তে বসবাস করেন) এক হাজার বছর ধরে সুপাই গ্রামে যাচ্ছেন, আসছেন কিন্তু হাভাসুপাইরা গিরিখাতের তলদেশে মাটি কামড়ে পড়ে আছেন। তারা অসীম ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করছেন, প্রকৃতি দেবী একদিন তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে পথ প্রদর্শন করবেন। হাভাসুপাই ট্রাইবাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি ওয়েসকোগেন বলেন, ‘এটি আমাদের পৈতৃক ও আধ্যাত্মিক বাসস্থান। এখানকার জলপ্রপাতের পানি পুরো গ্রাম ও গিরিখাতে বয়ে যাচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত