পুলিশ হত্যাকাণ্ড

সন্দেহভাজন ৪ আসামি ডিবি হেফাজতে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৩, ০৭:০৯ এএম

রাজধানীর ফার্মগেটে ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল মনিরুজ্জামান তালুকদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন চার আসামিকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তাদের মধ্যে তিনজন হত্যায় সরাসরি জড়িত। তবে তাদের কারও নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গতকাল রবিবার তাদের আটক করে হেফাজতে নেয় ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিম। এ বিষয়ে শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ডিবির তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে ডিবি তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন চার আসামিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই কনস্টেবল মনিরুজ্জামানকে খুন করা হয়েছে।’

ডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ডিবি যাদের হেফাজতে নিয়েছে তাদের বয়স ২২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। একাধিক ছিনতাই মামলার আসামি হয়েও তারা অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়াতেই পুলিশ কনস্টেবল মনিরুজ্জামানকে হত্যা করে তারা। ডিবি হেফাজতে রাখাদের একজন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তিনজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তথ্য পেয়েছে ডিবি। এরা তেজগাঁও এলাকার চিহ্নিত  ছিনতাইকারী।  

এদিকে মনিরুজ্জামান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত শনিবার রাতে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে ডিএমপির তেজগাঁও থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের। মামলাটির তদন্ত করছেন তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম। আর ছায়া তদন্ত করছে ডিবি।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ফার্মগেটের সেজান পয়েন্টের সামনে মনিরুজ্জামানের গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় তারা।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর ফার্মগেটে সেজান পয়েন্টের সামনে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে পুলিশের কনস্টেবল মনিরুজ্জামান নিহত হন। তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি। গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে ঢাকায় ফিরে তেজগাঁও রেলস্টেশনে নামেন মনিরুজ্জামান। সেখানে ট্রাফিক পুলিশের অফিসের দিকে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

মনিরুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার করুয়া গ্রামে। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাসেম তালুকদার। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে মনিরুজ্জামান দ্বিতীয়। গ্রামে তার স্ত্রী ও ছোট দুই ছেলে রয়েছে। ২০০২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পুলিশে যোগ দেন মনিরুজ্জামান। কিছুদিন ধরেই তিনি তেজগাঁওয়ে কর্মরত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত