বিশ্বকাপজয়ীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩, ১২:৫০ এএম

ঢাকা ছাড়ার আগে নিজের ইনস্টাগ্রামে ১১ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরের কিছু ছবি পোস্ট করে বড়সড় একটা অনুভূতি প্রকাশ করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ৩০ বছরের এই গোলকিপারকে ভালোবেসে বাংলাদেশের মানুষ দিয়েছে বাজপাখি ডাকনাম। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার ফাইনালে তার কৃতিত্বেই সেরার আসনে বসেছে আর্জেন্টিনা। সেই মার্তিনেজ ঢাকায় এসে খুব কমই সুযোগ পেয়েছেন সত্যিকারের আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করার। সেই সুযোগই যে রাখেনি তার সফরের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান নেক্সট ভেঞ্চারস ও ফান্ডেডনেক্সট। মার্তিনেজের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন হাতেগোনা কয়েকজন। মার্তিনেজ নিজেই গিয়ে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। তার স্পন্সরদের আমন্ত্রণে মার্তিনেজের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও তথ্যপ্রযুক্ত প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের।

আর্জেন্টিনা থেকে দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ শেষে কাল ভোর ৫টার কিছু পরে ঢাকায় পা রাখেন মার্তিনেজ। সেখান থেকে হোটেলে মাত্র তিন ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে যান নেক্সট ভেঞ্চারসের অফিসে। সকাল ৯টা ৭ মিনিটে সেখানে পৌঁছে সোয়া ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। এই সময়টায় তার সঙ্গে দেখা করতে সপরিবারে আসেন মাশরাফী, পলকসহ স্পন্সরদের খুব কাছের কিছু ব্যক্তি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তার হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় বাজপাখির মূর্তি, পিতলের নৌকা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একটি বই। মাশরাফী মার্তিনেজের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের একটি জার্সি।

এরপর মার্তিনেজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখার করার জন্য নেওয়া হয় কভিড পরীক্ষা করাতে। সেই পরীক্ষা উতরে মার্তিনেজ দুপুরে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। বিশ্বজয়ী দলের গোলকিপারের কাছ থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মার্তিনেজকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘আপনি সেই ব্যক্তি যিনি আর্জেন্টিনার জন্য গৌরব নিয়ে এসেছেন। আমি আপনার সাফল্য কামনা করি।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা এবং বাংলাদেশিরা এই খেলার অনুরাগী।’

ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মার্তিনেজের সঙ্গে দেখা করে মাশরাফী তার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ফেসবুক পাতায়, ‘এমিকে ভালো লাগার শুরু কোপা আমেরিকা থেকেই, যেখানে সে টাইব্রেকারে দুটি গোল আটকে দিয়ে দলকে জয় এনে দিল। কত বছর পর বড় কোনো শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা! লিওনেল মেসিও পেল দেশের হয়ে প্রথম বড় ট্রফির স্বাদ। স্বাভাবিকভাবেই পাখির চোখে তাকিয়ে ছিলাম বিশ্বকাপের দিকে। কিন্তু সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে মনে হয়েছিল, আরেকটি বিশ্বকাপও হয়তো শেষ হবে হতাশায়। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানো এবং পরে বিশ্বকাপ জয় দেখতে পারাটা ছিল অনেক দিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের মতো।

সেই জয়ের অন্যতম নায়ক এমির সঙ্গে দেখা হলো আমাদের এই ঢাকায়। খুব অল্প সময়ের জন্য দেখা, কিন্তু দারুণ এক অনুভূতি। বিশ্বকাপ জয়ী দলের গোলকিপার চোখের সামনে! সে তো জানে না, আমার এবং আমার মতো আরও কত কোটি মানুষের কত বছরের অপেক্ষা শেষ হলো, যেদিন তার ওই হাত ধরেই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয় করল! এমি, আপনাকে স্বাগত এই বাংলার মাটিতে। এখানে আপনাদের অগুনতি ভক্ত আছে, যুগ যুগ ধরে। আশা করি, আপনারও ভালো লাগছে এই মাটিতে পা রেখে।’

ভারতীয় এজেন্টের মাধ্যমে মার্তিনেজকে ঢাকায় এনেছিল নেক্সট ভেঞ্চারস। তবে এই পুরো উদ্যোগে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের ছিল বড় ভূমিকা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে মার্তিনেজের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে এই মন্ত্রী রাখেন অগ্রণী ভূমিকা। নেক্সট ভেঞ্চারসের দুই সহ-ফাউন্ডারকে ধন্যবাদ জানিয়ে পলক বলেন, ‘মার্তিনেজ যে বাংলাদেশকে কতটা ভালোবাসে, তার প্রমাণ ৩৬ ঘণ্টা আর্জেন্টিনা থেকে জার্নি করে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। মাত্র ১১ ঘণ্টার জন্য হলেও। ও বলেছে এই ছুটিটা ও আরও ভালোভাবে কাটাতে পারত। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যে তাকে ও আর্জেন্টিনা দলকে এত ভালোবাসে এ কারণেই জায়েদ ও গালিবের আমন্ত্রণ সে ফেলতে পারেনি। আগামীতে সে আবারও বাংলাদেশে আসতে চায়, আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে আসতে চায়, বাংলাদেশ দলের সঙ্গে খেলতে চায়।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি মনে করি, মার্তিনেজের সফরটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য যেমন গর্বের এবং আনন্দের, পাশাপাশি বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেবেন এক অ্যাম্বাসাডর হিসেবে।’

সত্যিই ভাগ্যবান মাশরাফী, পলকরা। তবে এই ভাগ্যবানের তালিকাটা ভীষণ ছোট। বরং বঞ্চিতদের সংখ্যা অগণিত। তাকে দেখতে যে অধীর আগ্রহে ছিলেন দেশের কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত