ধারাবাহিকভাবে (সিরিজ) ডাকাতি করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে খোলা হয়েছে শাখা। ডাকাতি শেষ করে সেই শাখা অফিসে নিয়ে লুটের মালামাল ভাগবাটোয়ারা করত ডাকাত দলের সদস্যরা। ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা এলাকার বাখু-া বাজারে একটি সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র্যাব। গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শ্যামপুর, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, শ্যামলী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও মাদারীপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন র্যাব-১০ সদস্যরা।
গ্রেপ্তাররা হলো ইসমাইল সরদার ওরফে লিটন, মো. মামুন সরদার, শেখ জাহাঙ্গীর, জলিল ওরফে সম্পদ ব্যাপারী, রুবেল মোল্লা, মো. হারুন, মো. সুমন মাতুব্বর ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর মধ্যে ইসমাইল সরদার ওরফে লিটন এই ডাকাত দলটির সর্দার বা প্রধান। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তালা কাটার যন্ত্র, রুপার অলংকার ও ১৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া সুমন মাতুব্বর ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ককটেল তৈরির সালফার ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, গত ২৭ মে ফরিদপুরের বাখু-া বাজারে দেশীয় অস্ত্রসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১২-১৪ জন সোনা, মুদি, ইলেকট্রনিকসসহ বেশ কয়েকটি দোকানে ডাকাতি করে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে। এই ডাকাত দলটিতে ৩৫ জনের মতো সদস্য আছে। ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাত দলটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি করে আসছিল। তাদের বড় বড় তিনটি গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপের অধীনে রয়েছে আবার শাখা গ্রুপ। তারা অস্ত্রের পাশাপাশি ককটেল ব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, বরিশাল-ফরিদপুর, মাওয়া, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন আন্তঃজেলা মহাসড়কে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ডাকাতি করে আসছিল দলটির সদস্যরা। গ্রেপ্তার ডাকাত সুমনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারি ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ২০টি মামলা রয়েছে। ডাকাত মামুন সরদারের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মারামারিসহ তিনটি মামলা আছে। ইসমাইল সর্দার লিটনের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। হারুন ব্যাপারীর বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও একটি অপহরণ মামলা আছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘ডাকাত দলটির সদস্যরা ছোটখাটো ব্যবসা করত। অনেকে আবার যখন যে কাজ পেত সেটা করত। ফরিদপুরে ডাকাতির ঘটনায় আমরা ১৫ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।’
