কোরবানি ঈদের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। এখনো চট্টগ্রামের আড়তগুলোতে পড়ে আছে পশুর চামড়া। লবণজাত করা এসব চামড়া বিক্রির জন্য প্রস্তুত। কিন্তু চামড়া কেনার মতো পর্যাপ্ত ট্যানারি নেই চট্টগ্রামে। ঢাকার ট্যানারিগুলোই ভরসা।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একসময় চট্টগ্রামে প্রচুর ট্যানারি ছিল। চামড়ার ব্যবসাও রমরমা ছিল। পুঁজি সংকট, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব প্রভৃতি কারণে প্রায় সব ট্যানারিই বন্ধ হয়ে গেছে। এখন একটি মাত্র ট্যানারি আছে রিফ লেদার। কিন্তু তাদের একসঙ্গে এত চামড়ার চাহিদা নেই। তাই এখন আমাদের তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে ঢাকার ট্যানারিগুলোর দিকে।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারির মালিকরা এখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আরও সপ্তাহখানেক পরে তারা চট্টগ্রাম আসতে পারে।’
কোরবানির মৌসুমেই চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট চাহিদার নব্বই শতাংশ চামড়া সংগ্রহ করা হয়। চট্টগ্রামের আড়তদাররা চলতি মৌসুমে সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও মিলেছে ৩ লাখ ১৯ হাজার। এর বাইরে গাউছিয়া কমিটিসহ বিভিন্ন মাদ্রাসার পক্ষ থেকে আরও অন্তত এক লাখ চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এবার নগরীর চামড়াগুলো সরাসরি আতুরার ডিপো কিংবা বিবির হাটের আড়তগুলোতে নিয়ে এলেও নগরীর বাইরের সিংহভাগ চামড়া সেখানেই লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। গাউছিয়া কমিটির সংগ্রহ করা চামড়াগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একাধিক স্থানে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
নগরীর আতুরার ডিপোর আড়তদারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা চামড়া নগরীর বিভিন্ন আড়তে আসা শুরু হয়েছে। সেগুলো আড়তে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এখনো প্রচুর চামড়া নগরীর বাইরে রয়ে গেছে। এসব চামড়া বিক্রি করতে কতদিন লাগবে তা কেউ বলতে পারছে না। সবাই অপেক্ষা করছে ঢাকার ট্যানারির লোকজনের আসার।
একাধিক আড়তদার বলেন, ‘দেশের চামড়াশিল্পের কাঁচামালের বড় অংশ জোগান দেয় চট্টগ্রামের আড়তগুলো। কিন্তু চামড়া কেনার জন্য চট্টগ্রামে ট্যানারি না থাকায় আমাদের পুরোপুরি ঢাকার ট্যানারিগুলোর ওপর নির্ভর করে থাকতে হয়। তারা অনেক সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম রেট দিতে চায়। বিকল্প না থাকায় আমাদেরও সেটা মানতে হয়। ফলে বিনিয়োগকৃত পুঁজির বিপরীতে কাক্সিক্ষত মুনাফা পাওয়া যায় না।’
চট্টগ্রামে চালু থাকা একমাত্র ট্যানারি রিফ লেদার লিমিটেড এবার এক লাখ পিস চামড়া কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মো. মোখলেসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের দিন থেকেই আমরা চামড়া সংগ্রহ করছি। আমাদের কাছে প্রায় ৫০ হাজার চামড়া এসেছে। সেগুলো লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা বাকি চামড়া সংগ্রহের কাজ শুরু করব।’
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সহসভাপতি আবদুল কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একসময় চট্টগ্রামে ২২টি ট্যানারি ছিল। তখন আড়তদারদের সংগৃহীত চামড়া কিনতে ট্যানারি মালিকরাও প্রতিযোগিতায় নামতেন। তাই মৌসুমি ব্যবসায়ী, আড়তদার কাউকে চামড়া নিয়ে টেনশন করতে হতো না। পরে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে রিফ লেদার লিমিটেড ছাড়া বাকি সব ট্যানারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংগৃহীত চামড়া বিক্রি ও যথাযথ দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় ব্যবসায়ীদের।’
