বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমা ইউক্রেনকে দেওয়ার পক্ষে সাফাই গাইলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসায় তাকে খুব কঠিন এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এ পদক্ষেপে রাজি হতে তার বেশ খানিকটা সময় লেগেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিবিসি বলছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সময়োচিত এ পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকও এর সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তনভ ইউক্রেনকে গুচ্ছ বোমা দেওয়ার এ পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের নিষ্ঠুরতা আখ্যায়িত করে কড়া ভাষায় এর সমালোচনা করেছেন।
গত শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন জানান, তিনি এ পদক্ষেপ নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কয়েক দিন বাদেই লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটো সম্মেলনে তাদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎও হবে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউজের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সালেভান বলেছেন, অবিস্ফোরিত গুচ্ছ বোমায় বেসামরিকদের ঝুঁকির বিষয়টি কর্মকর্তারা স্বীকার করে বলেন, এ কারণেই আমরা যতটা সম্ভব দেরি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, ইউক্রেনের কামানের গোলা শেষ হয়ে আসছে, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন না বাড়ছে, ততক্ষণ এই সরবরাহ করা গুচ্ছ বোমা সেতুর ভূমিকা পালন করবে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে আমরা ইউক্রেনকে অরক্ষিত রাখতে পারব না।
সালেভান সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা ইউক্রেনে যেসব গুচ্ছ বোমা পাঠাচ্ছেন, সেগুলো রাশিয়া এরই মধ্যে যুদ্ধে যেসব গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করেছে তার তুলনায় অনেক নিরাপদ।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যেগুলো পাঠাচ্ছে সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকার হার আড়াই শতাংশেরও কম, অন্যদিকে রাশিয়ারগুলোর অবিস্ফোরিত থাকার হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে, বলেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অবিস্ফোরিত থাকার হার ১ শতাংশের বেশি এমন গুচ্ছ বোমার উৎপাদন, ব্যবহার ও সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা আছে, তবে আইনটিকে পাস কাটিয়ে বিতর্কিত এই যুদ্ধাস্ত্র ইউক্রেনে পাঠানোর ক্ষমতা আছে বাইডেনের।
তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মার্তা হার্তাদো বলেছেন, এ ধরনের বোমার ব্যবহার এখনই বন্ধ হওয়া উচিত এবং কোথাও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
