সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদে দান করা কাঁঠালের নিলামকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৪০ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে জয়কলস ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে দ্বীন ইসলামের প্রতিপক্ষ সুনু মিয়া ও জুনাব আলীর পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন ওই গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে নুরুল ইসলাম (৪২), আবদুস সুফি মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৫৮) এবং আবদুল বাছিতের ছেলে শাহজাহান মিয়া (৩৬)। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহতদের মধ্যে বাবুল মিয়া ও নুরুল ইসলাম দ্বীন ইসলাম পক্ষের। আর মো. শাহজাহান জুনাব আলী পক্ষের।
শান্তিগঞ্জ থানা-পুলিশ ও হাসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামটির মসজিদে এক ব্যক্তি একটি কাঁঠাল দান করেন। মসজিদে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে কাঁঠালটি নিলামে তুলে দাম হাঁকানো হয়। এ সময় দ্বীন ইসলামের পক্ষের লোকজন দামের কথা শোনা যাচ্ছে না বলে আওয়াজ তোলেন। তখন দ্বীন ইসলামের প্রতিপক্ষ একই গ্রামের সুনু মিয়া ও জুনাব আলীর সমর্থকরা বলে ওঠেন, ‘মসজিদের ভেতরে অবস্থানকারী সবাই শুনলেও তোমরা কেন শুনতে পাও না?’ এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জেরে গতকাল বেলা ১১টার দিকে দ্বীন ইসলামের লোকজনের সঙ্গে প্রতিপক্ষ সুনু মিয়া ও জুনাব আলীর লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে বাবুল মিয়া ও নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মো. শাহজাহান মিয়ার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে জয়কলস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবদুল বাছিত সুজন বলেন, ‘রবিবার রাতে এবং আজকে (গতকাল) ভোরে হাসনাবাদ গ্রামে গিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে কথা বলেছি। উভয় পক্ষের লোকজন আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে কোনো পক্ষই মারামারিতে জড়াবে না। এমন আশ্বাসের পর তাদের শান্ত করে উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে আমি চলে আসি। পরে শুনতে পাই উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। একটি কাঁঠাল নিয়ে এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা খুবই দুঃখজনক।’
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শুভাশিস ধর জানান, হাসনাবাদ গ্রামে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
