কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যের ভাতার টাকা কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে নাজমা আক্তারের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) দিন ব্যাপী উপজেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয়ে টাকা বিতরণকালে এ অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্বাচনকালীন সময়ে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের আগে অফিস খরচের কথা বলে দল নেতারা ৫০০ টাকা করে নেন। এখন আবার ২৩০০ টাকার মধ্যে ১৯৮০ টাকা করে দিচ্ছেন। অথচ ওই দায়িত্ব পালন শেষে সরকার থেকে আমাদের ২৭৫০ টাকা করে দেয়ার লোভ দেখায় ওই দলনেতারা। আর আজকে টাকা কম দিচ্ছেন।
আনসার-ভিডিপি অফিসে গিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর নাঙ্গলকোট উপজেলা ৮টি ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ১ হাজার ২২৪ আনসার ও ভিডিপি সদস্য চার দিন নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করেন। এ জন্য শুরুতে তাদের ২ হাজার ৩ শত টাকা ভাতা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। শুকনো খাবারের টাকা কম আসায় তাদেরকে ১ হাজার ৯৮০ টাকা করে দিচ্ছেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নাজমা আক্তার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আনসার-ভিডিপির কয়েক জন সদস্য বলেন, রাতের ঘুম বাদ দিয়ে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিই। দায়িত্ব পালনের আগে দল নেতারা বলেছে ২৭০০ টাকা করে ভাতা দিবে। আবার অফিস খচরও ৫০০ টাকা করে নিয়ে যায় তারা। আজকে আবার টাকা নিতে আসলে দেখি ১৯৮০ টাকা দিচ্ছে। সবাই গরিবের টাকা মেরে খায়। কেউই গরিবের দিকে চায় না। আল্লাহ তাদের বিচার করুন।
আল্লাহর কাছে বিচার দিব।
এ বিষয়ে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নির্বাচনকালীন সময় ভোট কেন্দ্রে চার দিনের দায়িত্ব পালন জন্য ২৩০০ টাকা ভাতা নির্ধারণ করেন সরকার। তার মধ্যে শুকনো খাবারের টাকা কম আসায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হান মেহেবুবের সঙ্গে আলোচনা করে ১৯৮০ টাকা করে ভাতা দিচ্ছি। পরবর্তীতে শুকনো খাবারের টাকা আসলে তাদের দেয়া হবে। আর যারা বলছে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আগে ৫০০ টাকা নিয়েছে তা মিথ্যা। আমার অফিসের কেউ যদি এমন কাজ করে থাকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হান মেহেবুবের মোবাইলে কল দিয়েও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লা জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সঞ্চয় চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুকনো খাবারের টাকার বরাদ্দ পাইনি। পরে পেলে বিকাশ নম্বর বা উপজেলা অফিসে এসে নিয়ে যেতে পারবে। তার জন্য এখন টাকা কম দেয়া হচ্ছে।
দায়িত্ব পালনের আগে ৫০০ টাকা করে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন ধরনের কথা পরে শুনি। কিন্তু কোনো সদস্য অভিযোগ দেয় না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
