একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায়ে আমৃত্যু কারাদন্ডপ্রাপ্ত শামসুল হকের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে সাড়ে তিন বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির আপিল শুনানি শুরু হলো। সাত বছর আগে শামসুল হককে আমৃত্যৃ কারাদ- দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মামলার পেপারবুক (রায়সহ যাবতীয় নথি) থেকে পড়ে শোনান। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম। শামসুলের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পেপারবুক থেকে পড়ে শুনানি শুরু করেছি। আমাদের শুনানি শেষে আসামিপক্ষ তাদের শুনানি করবে।’
একাত্তরে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই জামালপুরের তিন আসামিকে মৃত্যুদ- ও পাঁচজনকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। আমৃত্যু কারাদন্ডপ্রাপ্তদের একজন হলেন অ্যাডভোকেট শামসুল হক। মামলা থেকে খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আপিল করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী আসামির সাজা কিংবা খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান রয়েছে। তবে সাজাপ্রাপ্ত কিন্তু পলাতক আসামিদের আপিলের সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্য মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষে ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এখন পর্যন্ত ৪২টি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার বেশিরভাগ আসামির মৃত্যুদন্ডের রায় হয়েছে ট্রাইব্যুনালে। তবে ট্রাইব্যুনালে রায় হলেও গত ছয় বছরে একটি আপিল মামলাও নিষ্পত্তি হয়নি। ২০১৭ সালের ১৫ মে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউয়ের (রায় পুনর্বিবেচনা) রায়ে তার আমৃত্যু কারাদ- বহাল থাকে। এরপর আপিল বিভাগে আর কোনো মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ দন্ডপ্রাপ্ত আসামি সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিলের শুনানি ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর শেষ হয়। পরের বছর ১৪ জানুয়ারি তার মৃত্যুদ- বহালের রায় দেয় আপিল বিভাগ। পরে কায়সার এ রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করেন। তবে, বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি কারাগারে থাকা কায়সার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
