চেয়ারম্যানের শ্যালকের বালুতে নালা বন্ধ

জলাবদ্ধতায় লাখ মানুষ প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৩, ১১:০৬ পিএম

দিনাজপুর শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়ায় নদী থেকে উত্তোলন করা বালুতে নালা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন প্রায় এক লাখ মানুষ। বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছে না এলাকাবাসী। বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকালে দিনাজপুর-সেতাবগঞ্জ সড়কের কাঞ্চন সেতুর ওপরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন হাজারো এলাকাবাসী। এ সময় সেতুর দুই পাশের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্যানেল মেয়র ও পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনাজপুরের বিরল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর শ্যালক চাঞ্চলের কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। চঞ্চল আর কাশেম হাজি পুনর্ভবা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে এখানে ফেলছেন। তারা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি পৌরসভার অংশেও বালু ফেলছেন। এতে নালাগুলো বন্ধ হয়ে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। পানি বের হতে না পারায় এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, ‘আগে এখানে একটি ড্রেন (নালা) ছিল। এই ড্রেন দিয়ে এখানকার প্রায় ১ লাখ বাসিন্দাদের পানি গিয়ে নদীতে পড়ত। হঠাৎ করে এখানে বালু ফেলা শুরু করলে পানি যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে আমাদের সবার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

লাইলি বেগম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। আমার ছেলের জ¦র আর মাথা ব্যথা। আমি তাকে নিয়ে বসেই ছিলাম। পরে দেখি আমাদের ঘরে পানি ঢুকছে। এখন আমার ছেলেকে নিয়ে কি করব আর ঘরের মালপত্র নিয়ে কি করব বুঝতেছিলাম না। আর একটু হলেই চৌকিতে পানি উঠত। ময়লা পানিতে মালপত্রগুলো ডুবে গিয়েছিল। আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি চাই।’

বিরল উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ‘চঞ্চল আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। জমির মালিক যখন তার জমিতে বালু ফেলছে তখন বালুগুলো ড্রেনেও চলে আসছে। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অনেকবার পৌরসভায় গিয়েছিল এই সমস্যার জন্য। পৌর কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নিলে সমাধান হয়ে যেত।’

দিনাজপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলাল বলেন, ‘শনিবার (আজ) এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করতে দুটি ভ্যাকু মেশিন কাজ করবে। পৌরসভা থেকে এখানে ড্রেনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী বরাদ্দে এটির কাজ শুরু হবে।’ স্থানীয়রা অনেকবার জানানোর পরও সমস্যার সমাধান করতে না পারা পৌরসভার ব্যর্থতা বলে স্বীকার করেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শেখ জিন্নাহ আল মামুন বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়ায় নতুনপাড়া এলাকাবাসী রাস্তায় নেমেছে। আমরা প্যানেল মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের আশ^াসে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত