দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এখন। সঙ্গে এ প্রশ্নও দেখা দিয়েছে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা হবে কি হবে না। শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে না আসলে রাজনৈতিকভাবে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে? নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনের দিনক্ষণের বিষয়টি ততই গুরত্ব পাচ্ছে।
আজ বুধবারও রাজধানীর তেজগাঁও সাতরাস্তায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, শিগগির আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই শিগগিরই কবে তা তিনি উল্লেখ করেননি।
তবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের আগে নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না বলে সূত্রগুলো জানাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে ইসির দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেছেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা বক্তব্য আসলেও ঠিক কোন দিন বা কোন তারিখে নির্বাচন হবে তা এখনও নির্ধারন করা হয়নি।
ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ দেশ রূপান্তরকে জানান, বর্তমান সংসদের মেয়াদ পূর্তির ৯০ দিন আগেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে। এখনও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় বা ইসি কমিশন বৈঠকে এজেন্ডা হিসেবে আলোচনায় আসেনি। তাই কোন তারিখে এই নির্বাচন হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে সংবিধান অনুযায়ী যে পদ্ধতি রয়েছে ইসি তার আলোকে কাজ করছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা ইতোমধ্যে বলছেন, বর্তমান সরকারই নির্বাচনের সময় ক্ষমতায় থাকবে। তবে সরকারের চরিত্র ও আকার কিছুটা ভিন্ন হবে। ওই সরকার দৈনন্দিন কাজ করবে, নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। নির্বাচনের বিষয়ে তারা নির্বাচন কমিশনকে সর্বোতভাবে সহায়তা করবে।
তবে বিএনপি ও তাদের সহযোগী দলগুলোর দাবি, যে নামেই হোক না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। আওয়ামী লীগের মহাজোট সঙ্গী জাতীয় পার্টিও দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে মনে করেন।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সম্প্রতি বলেছেন যখন তারা (বিএনপি) বলবে আমরা ইলেকশনে অংশগ্রহণ করতে রাজি আছি, আমরা অংশগ্রহণ করব। এর জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগে সরকারকে ঘোষণা দিতে হবে তারা পদত্যাগ করবে। তারপরই সংলাপ হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও চায় নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে অর্থপূর্ণ সংলাপ হোক।
তবে আগামী নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গত ২৫ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান মেয়াদে এটাই শেষ বাজেট। তবে, একেবারে শেষ বাজেট কি না, সেই সিদ্ধান্ত জনগণ ভোটের মাধ্যমে নেবে। চলতি বছরের শেষের দিকে বা ২০২৪ সালের শুরুতে হবে এই নির্বাচন।
