প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের নিজস্ব খনি থাকার সুবিধা ভোগ করছে সিমেন্ট উৎপাদনকারী বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। কাঁচামালের সহজলভ্যতা থাকায় তাদের উৎপাদন ব্যয় অন্যান্য কোম্পানিগুলোর তুলনায় কম। এ ছাড়া মানসম্মত সিমেন্ট উৎপাদন করায় লাফার্জহোলসিমের সিমেন্ট বিক্রিও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে প্রতি বছরই কোম্পানিটির নিট মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধেও (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটি রেকর্ড মুনাফা করেছে। এ সময় কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৩৬১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৬ শতাংশ বেশি।
গত বুধবার প্রকাশিত লাফার্জহোলসিমের প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কোম্পানিটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর যেকোনো হিসাব বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় এটিই সবচেয়ে বেশি মুনাফা।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি প্রথমার্ধে পণ্য বিক্রি থেকে লাফার্জহোলসিমের আয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। কোম্পানিটি জানিয়েছে, নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্যের বদৌলতে নিট বিক্রি বেড়েছে। এ সময় সিমেন্ট, ক্লিংকার ও অ্যাগ্রিগেটস বিক্রি থেকে লাফার্জহোলসিমের আয় হয়েছে ১ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। এ সময় সিমেন্ট বিক্রিতে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পাথরের ব্যবসা থেকেও বিপুল আয় এসেছে। চলতি প্রথমার্ধে অ্যাগ্রিগেটস বিক্রি থেকে কোম্পানির আয় হয়েছে ২১৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭১ কোটি টাকা।
চলতি বছরে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কোম্পানিটির ক্লিংকারের নিজস্ব খনি থাকায় এর সিমেন্ট উৎপাদন ব্যয় অন্য কোম্পানির তুলনায় অনেক কম। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্যান্য সিমেন্ট কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় মোট বিক্রির প্রায় ৮৪-৮৫ শতাংশ হলেও চলতি প্রথমার্ধে লাফার্জহোলসিমের উৎপাদন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬১ শতাংশে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৮ শতাংশের বেশি। উৎপাদন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে কমায় নিট মুনাফা বাড়ছে। উৎপাদন ব্যয় সমন্বয়ের পর চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির মোট মুনাফা হয়েছে ৫৮৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৫ শতাংশ বেশি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে ভারতের মেঘালয় থেকে চুনাপাথর সুনামগঞ্জে অবস্থিত লাফার্জের কারখানায় নিয়ে আসা হয়, যা থেকে সিমেন্ট উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশের বড় বড় প্রকল্পগুলোতে বিশেষায়িত সিমেন্ট সরবরাহ করছে কোম্পানিটি।
প্রশাসনিক, বিক্রি ও বিপণন ব্যয়ের পর চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৬০ কোটি টাকায়, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৫৭ কোটি টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি প্রথমার্ধে লাফার্জহোলসিমের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২১৭ কোটি টাকা। চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১১ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৮৭ পয়সা।
মুনাফা প্রসঙ্গে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ইকবাল চৌধুরী বলেন, দারুণ এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আমাদের পণ্যের বৈচিত্র্য, দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, বাংলাদেশ জুড়ে কৌশলগত উপস্থিতি এবং অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা। এ ছাড়া জিওসাইকেল প্রকল্পের মাধ্যমে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ ও বিকল্প জ্বালানির জোগানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি আমরা। উপরন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর অনুমোদিত একমাত্র টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি জিওসাইকেল একটি বর্জ্য শূন্য সমাজ উপহার দিতে প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ডিকার্বনাইজেশনসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিষ্কার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে চলেছি।
