রাজবাড়ীতে কৃষি আবহাওয়ার তথ্য ও পূর্বাভাস

৪২ ইউপির সব যন্ত্রপাতি নষ্ট

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩, ১২:৩৬ এএম

কৃষকদের কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পূর্বাভাস জানাতে রাজবাড়ীর ৪২টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে ২০১৮ সালে স্থাপন করা হয় আবহাওয়া তথ্য বোর্ড, স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র ও সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল। তবে গত পাঁচ বছরে এসব যন্ত্রপাতির কোনোটিরই কোনো ধরনের উপযোগিতা পাননি কোনো কৃষক। কোনোদিন যন্ত্রগুলো সচল ছিল কি না তাও বলতে পারছেন না কেউ। এমনকি, অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাও বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প সহযোগিতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে দেশজুড়ে ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতিকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় এসব আবহাওয়া যন্ত্রপাতি জেলার ৪২টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়। পরিষদের দৃশ্যমান স্থানে বসানো হয় আবহাওয়া বোর্ডগুলো। সেখানে আগামী তিনদিনের বৃষ্টির সম্ভাবনা, গত তিনদিনে কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে তা উল্লেখ থাকার কথা। এছাড়া তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, আলোকঘণ্টা কত সময়, ঝড়ের পূর্বাভাসসহ এরকম মোট ১০টি ছক রয়েছে বোর্ডে। বোর্ডের নিচে থাকার কথা ইউনিয়নটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তার নাম-মোবাইল নম্বর। আর ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে লাগানো থাকার কথা একটি স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র এবং সোলার প্যানেল। প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ৫ বছর যা শেষ হয় ২০২৩ সালের জুন মাসে। কিন্তু প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে এসব যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে কত টাকা ব্যয় হয় সেই তথ্য কৃষি ও আবহাওয়া দপ্তরে দায়িত্বরত কোনো কর্মকর্তাই দিতে পারেননি।

জেলার পাঁচ উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে এই প্রতিবেদক ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সবকটি আবহাওয়া বোর্ড অচল পেয়েছেন। কোথাও স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্রটি ভাঙা পাওয়া গেছে। আবহাওয়া বোর্ডেও কোনো তথ্য নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বরও উল্লেখ নেই বোর্ডে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিবরাও জানেন না বিষয়টি সম্পর্কে। ফলে প্রকল্পটি আলোর মুখ আর দেখেনি। যে কৃষকদের জন্য এত আয়োজন তারা জানার আগেই বিফলে যায় প্রকল্পটি।

গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, অযত্ন আর অবেহলায় পড়ে থাকা আবহাওয়া বোর্ডে আচ্ছামতো জমেছে ধুলাবালি আর মাকড়সা বাসা বেঁধেছে। পরিষদের সচিব মেনামুল হাসান মিন্টু বলেন, আসলে ওই বোর্ডের কী কাজ জানি না। এখানে আসার পর থেকে বোর্ডটি দেখছি। বোর্ডে কী তথ্য থাকবে, কারা তথ্য দেবে এসব কিছুই জানি না।

রাজবাড়ী শহরের পাশেই রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদ। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজীব মোল্লা বলেন, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পরে পরিষদে এসে দেখি একটা বোর্ড টানানো সিঁড়ির পাশে। এই বোর্ডে কে তথ্য দেবে, দায়িত্ব কার বা তদারকি কারা করে এসবের কিছুই জানি না। আপনার (এ প্রতিবেদক) কাছ থেকে বিষয়টি প্রথম জানতে পারলাম।

পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও দেখা যায় বোর্ড ঠিকই ঝুলানো আছে। কিন্তু সেখানে কোনো তথ্য নেই। পরিষদে সেবা নিতে আসা কৃষক মতিউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাড়ি পরিষদের পাশেই। এটা যে আবহাওয়া বোর্ড সেটি আপনার কাছ থেকে প্রথম জানতে পারলাম। কৃষকদের জন্য এত আয়োজন কিন্তু আমি কৃষক হয়েও জানি না।

বোর্ডগুলোর বাজেট-ব্যয়ের ব্যাপারে জানতে নিকটস্থ কুষ্টিয়ার কুমারখালী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমানকে কল দিলে তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নষ্ট কৃষি আবহাওয়ার যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য চিঠি পাঠিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত