‘এক দফার’ আন্দোলনে বিএনপি এনডিএমের ঐকমত্য

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩, ০২:৩১ এএম

সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ‘এক দফার’ যুগপৎ আন্দোলনে এনডিএম (জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন) ও বিএনপির মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের একথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আজ এনডিএম একদফাকে সমর্থন করে এই ফ্যাসিস্ট দখলদার অবৈধ সরকার পতনের আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। আগামীতে যুগপৎ আন্দোলনের যে কর্মসূচি থাকবে এনডিএমেরও সেখানে কার্যকর ভূমিকা থাকবে এবং তারা ওই কর্মসূচিগুলোতে যোগ দেবে।’

এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আজ আলোচনা হয়েছে পার্টি টু পার্টি এনডিএম ও বিএনপির মধ্যে। বিএনপির এক দফা আন্দোলনে আমরা একাত্মতা ঘোষণা করে গত ১৫ জুলাই আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। আমাদের একটাই দাবিÑ এই প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সম্ভব না, নির্বাচনে যাব না।’

এ সময় খালেদা জিয়াসহ সব ‘রাজবন্দির’ মুক্তি, তারেক রহমানসহ বিরোধী নেতাকর্মীর ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এনডিএম প্রধান।

ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হুমায়ুন পারভেজ খান, কেন্দ্রীয় নেতা মমিনুল আমিন, নুরুজ্জামান হিরা প্রমুখ। আমীর খসরু ছাড়াও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল অংশ নেন।

হিরো আলম হারেনি, হেরেছে গণতন্ত্র, জনগণ আজম খান : গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে লক্ষ্মীপুরে কৃষকদল নেতা সজীব হোসেন হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী কোন লজ্জায় সংসদে বসবেন? বাংলাদেশের নির্বাচনের ওপর সরকারের শকুনের চোখ পড়েছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আবারও একটি নির্বাচন করতে চায় সরকার। কিন্তু তাদের চক্রান্ত সফল হবে না।

‘এক দফা’র লিফলেট কৃষিমন্ত্রীর হাতেও : গতকাল কাকরাইলে সার্কিট হাউজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনসহ অনেকে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বেরিয়ে ‘একদফা আন্দোলনের’ লিফলেট বিতরণ করেছেন বিএনপির ঢাকা বিভাগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুরের জেলা সভাপতি ফজলুল হক মিলন।

এ সময় কৃষিমন্ত্রীর হাতেও তিনি লিফলেট দেন। ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘দুই-আড়াইশ জনকে আমি একদফার লিফলেট দিয়েছি। এই মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে যখন বেরুচ্ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, তাকেও আমি লিফলেট দিয়েছি। তাকে বললাম একটা লিফলেট দিতে চাই আপনাকে। উনি বললেন, দেন। কৃষিমন্ত্রীর হাতে লিফলেট বিতরণের আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।’

মিলন জানান, ‘প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকেও দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি কোনো কিছু বলেননি, শুধু মাথা নেড়েছেন।’

এদিকে বিকেলে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বিএনপির পদযাত্রায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘মৃত ব্যক্তি আসামি হওয়ায় আবারও প্রমাণিত হলো বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা মিথ্যা। এর আগে বিদেশে চিকিৎসারত এবং হজ পালনরত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়েছিল।’

এর আগে বাদ জুমা নয়াপল্টন এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন রিজভী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম আজাদ, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়া আহমেদ কচি প্রমুখ।

গতকাল বিকেলে নয়াপল্টনের ভাসানী মিলনায়তনে এক যৌথসভায় বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, সরকার নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কোনো লাভ হচ্ছে না দেখে জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ এখন সন্ত্রাসের পথে হাঁটছে।

মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর দক্ষিণের নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধাসহ থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত