নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রায় এক মাস যাবৎ মালিকবিহীন একটি ঘোড়া রাস্তার পাশে বেঁধে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা মাঝে মাঝে খাবার দিলেও বেশির ভাগ সময় না খেয়ে থাকতে হচ্ছে ঘোড়াটিকে। অতি দ্রুত ঘোড়াটিকে উদ্ধার না করা হলে মারা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের চড়পিপলা গ্রামের আজরাইলের মোড় নামক স্থানে ওই ঘোড়াটি রয়েছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মো. আলামীন বলেন, প্রায় এক মাস পূর্বে চড়পিপলা গ্রামের যুবক মোতালেব হোসেন ঘোড়াটি রাস্তার পাশে বেঁধে রাখে। প্রথমে গ্রামবাসী ভেবেছিল ঘোড়াটি সে হয়তো কিনেছে। মোতালেব হোসেন ভবঘুরে যুবক। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। পরিবারে কেউ নেই। ঘোড়াটি বেঁধে রাখার পর থেকে টানা ৭ দিন না খেয়ে ছিল। সাত দিন পরে যখন গ্রামবাসী বুঝতে পারে, ঘোড়ার মালিক নিখোঁজ। সে সময় থেকে ঘোড়াকে স্থানীয়রা মাঝে মাঝে খাবার দেয়। আমিও দিনের কাজকর্ম শেষ করে এসে খাবার দিই। কিন্তু বেশির ভাগ সময় ঘোড়াটিকে না খেয়ে থাকতে হয়। অযত্ন অবহেলায় অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে ঘোড়াটি। তাই আমি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে এ বিষয়ে জানিয়েছি। অতি দ্রুত এই ঘোড়াটিকে উদ্ধার করা না হলে মারা যেতে পারে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মুন্নাফ হোসেন বলেন, ঘোড়াটি উদ্ধার করার জন্য আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনকে জানিয়েছি। কারণ বেঁধে রাখার পর থেকে তার মালিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘোড়াটিকে তেমন কেউ খাবারও দেয় না। তাই দ্রুত ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে ভালো কোনো জায়গায় স্থানান্তর করা হোক।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। আশা করছি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ঘোড়াটিকে উদ্ধার করতে পারব।
রাজশাহী বন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর মো. জাহাঙ্গীর কবির জানালেন, ইতিমধ্যেই ঘোড়াটির ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে ভালো জায়গায় স্থানান্তর করা হবে।
