পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম কী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৩, ০৯:৪৬ পিএম

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS) অনেক নারীর কাছে পরিচিত রোগ। অনিয়মিত মাসিক এবং বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ এটা। এই রোগে ওভারিতে চারপাশে মালার মতো অনেক ছোট ছোট সিস্ট হয়। সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে মেয়েদের এমন হয়। 

কেন হয় : পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম নারীদের ওভারি বা ডিম্বাশয় এবং হরমোন উৎপাদন মাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে। যখন মেয়েলি হরমোন থেকে পুরুষালি হরমোনের উৎপাদন বেশি হয়ে যায়, তখন ডিম্বগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিপক্ব হয় না এবং সঠিক সময়ে পিরিয়ডের মাধ্যমে বের না হয়ে সিস্ট আকারে ওভারিতে জমা হয়। এমনভাবে অনেকগুলো সিস্ট জমা হয়ে ওভারির আকার বড় করে ফেলে এবং পলিসিস্টিক ওভারির সৃষ্টি করে।

কারণ : মেয়েদের শরীরে অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন তৈরি হওয়াকে এ রোগের প্রধান কারণ ভাবা হয়। বংশগত কারণে, পারিবারিকভাবে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে। অতিরিক্ত ইনসুলিন ওভারিতে পুরুষ হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। খাবারে অতিরিক্ত রাসায়নিকের প্রয়োগ, প্যাকেট বা টিনজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং চর্বিযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, অপর্যাপ্ত বা অনিয়ন্ত্রিত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রম কম, স্ট্রেস ও মানসিক চাপ থেকে হতে পারে। অনেক নারীই প্রথমে এ সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না।

লক্ষণ :সাধানত বয়ঃসন্ধির কিছু পর থেকে লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এর প্রকাশ প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও হয়ে থাকে। অনেকেই ছোট ছোট লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না। যখন গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দেয়, তখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানতে পারেন। লক্ষণগুলো হলো হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া এবং বাড়তেই থাকা। শরীরের ওপরের অংশ ও পেটের ওজন বাড়তে থাকা। অনিয়মিত পিরিয়ড ও নানা সমস্যা। অলিগোমেনোরিয়া ও  অ্যামেনোরিয়া ইত্যাদি। পুরুষের মতো মুখে, বুকে, পিঠে বা অন্যান্য জায়গায় অবাঞ্ছিত লোম দেখা দেয়। তৈলাক্ত ত্বক এবং ব্রণের আধিক্য। ঘাড়ে কালো ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। স্ক্যাল্পের কোথাও কোথাও চুল উঠে গিয়ে টাক পড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত