মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকা প্রতিদিন জানানোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার মাউশি অধিদপ্তর দেশের নয়টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে। গতকালই আবার আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এক নির্দেশনায় শিক্ষকদের অনুপস্থিতির তালিকা পাঠাতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।
গতকাল মাউশির ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এএসএম আবদুল খালেকের সই করা এক আদেশে বলা হয়, অননুমোদিতভাবে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে তার তালিকা প্রতিদিন পাঠাতে হবে। আরও বলা হয়, শিক্ষকদের যারা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রবিবার অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত ছিল তাদের নামের তালিকা পাঠাতে হবে। প্রত্যেক আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেই আদেশ জারি করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আন্দোলন থেকে অনেকেই চলে গেছেন, যারা আছেন তারাও কিছুদিন থেকে চলে যাবেন।’ তিনি আন্দোলনরত শিক্ষকদের আবারও ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দীপু মনি বলেন, ‘শিক্ষকদের আন্দোলনের পেছনে অবশ্যই উসকানি আছে। কারণ যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে, তারা জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছে না। তারা একেক সময়, একেক গোষ্ঠীর ওপর সওয়ার হয়। তারা এখন শিক্ষকদের আন্দোলনের ওপর সওয়ার হয়ে তাদের আন্দোলন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই পারে। শিক্ষকদের বলব, এরকম কোনো ফাঁদে পা দেবেন না।’
তিনি বলেন, জাতীয়করণের বিষয়ে যেসব কমিটি হচ্ছে, তারা রিপোর্ট দিলে সরকার সেগুলো বিবেচনায় নেবে। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এ ধরনের কর্মসূচি কাম্য নয়। আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি, শিক্ষকদের বলব তারা যেন শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান।
মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ১৪ দিন আন্দোলনে রয়েছেন শিক্ষকরা। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে জাতীয়করণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এলেই তারা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবেন। স্কুলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকা তৈরির কথা বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের টালবাহানা বন্ধের দাবিও জানান তারা।
