বিএটির সিগারেট বিক্রি বেড়েছে ১০.৫%

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩, ১২:৩৩ এএম

ধূমপায়ীদের নিরুৎসাহিত করতে ধূমপানবিরোধী সংগঠনগুলো প্রতি বছরই বাজেটকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালায়। সিগারেটের দাম বাড়াতে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে। সিগারেটের প্যাকেটের বড় অংশজুড়ে ছবিসহ লেখা থাকে ‘ধূমপানের কারণে গলায় ও ফুসফুসে ক্যানসার হয়’। তবে ধূমপানে বিরত রাখার এমন সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। প্রতি বছর দাম বাড়ানোর পরও দেশে সিগারেট উৎপাদনকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিএটি বাংলাদেশ লিমিটেডের আয় বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে সিগারেট বিক্রিতেও ব্যাপক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে বহুজাতিক এ কোম্পানিটি।

বর্তমানে দেশে সিগারেটের বাজারের ৭০ শতাংশের বেশি দখলে রয়েছে বিএটি বাংলাদেশের। প্রতি বছরই কোম্পানিটির উৎপাদিত সিগারেট বিক্রি ও আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধেও (জানুয়ারি-জুন) সিগারেট বিক্রিতে সাড়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় পণ্য বিক্রি থেকে নিট আয় বেড়েছে ১৯ শতাংশ।

বিএটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক দশক আগে পুরো বছরে বিএটি যে পরিমাণের সিগারেট বিক্রি করত, চলতি হিসাব বছরের ছয় মাসে তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণের সিগারেট বিক্রি করে। এক দশকের ব্যবধানে কোম্পানিটির সিগারেট বিক্রির পরিমাণ ১৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিএটির ২০১২ সালের বার্ষিক নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছরে কোম্পানিটি ২ হাজার ৯৯১ কোটি স্টিক সিগারেট বিক্রি করে। আর চলতি বছরের প্রথমার্ধে অর্থাৎ ছয় মাসে কোম্পানিটির সিগারেট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯১০ কোটির বেশি স্টিক।

গত এক দশকে ধারাবাহিকভাবে অভ্যন্তরীণ বাজারে বিএটি বাংলাদেশের সিগারেট বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১৫ সালে কোম্পানিটির সিগারেট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ২৫৪ কোটি স্টিক। আর ২০১৭ সালে বিএটি বাংলাদেশ ৫ হাজার ৩২০ কোটি স্টিক সিগারেট বিক্রি করে। ২০১৮ সালে বিক্রি কিছুটা কমে ৫ হাজার ১৪২ কোটি ৫০ লাখ স্টিকে নেমে আসে। আর ২০১৯ সালে সিগারেটের দাম আরও বাড়ায় বিক্রি নেমে আসে ৫ হাজার ৭৪ কোটি ৪০ লাখ স্টিকে। তবে এরপর তা আবারও বেড়ে গিয়ে ২০২১ সালে ৬ হাজার ৩০০ কোটি স্টক সিগারেট বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি, ২০২২ সালে যা ৬ হাজার ৫৪৪ কোটি ৬০ লাখ স্টিকে উন্নীত হয়।

এদিকে সিগারেট বিক্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএটির আয় ও মুনাফাও সমানতালে বেড়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এক দশকে সিগারেট বিক্রির ওপর সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ সরকারের আয় বেড়েছে ৩৪২ শতাংশ। একই সময়ে বিএটি বাংলাদেশের নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩৫৪ শতাংশ। আয় ও মুনাফার এ ধারা চলতি হিসাব বছরেও অব্যাহত রয়েছে।

চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে সিগারেট বিক্রি থেকে কোম্পানির আয় হয়েছে ২১ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাদ দেওয়ার পর নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯২০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের প্রথমার্ধে ছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। উৎপাদন ব্যয় সমন্বয়ের পর চলতি প্রথমার্ধে আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি। তবে নিট আয়ের প্রবৃদ্ধি অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার কারণে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি প্রথমার্ধে বিএটি বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় দাঁড়িয়েছে নিট আয়ের ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানিটির পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৮২ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৬ শতাংশ বেশি। এ দুই খাতে ব্যয় বাড়ায় চলতি প্রথমার্ধে বিএটি বাংলাদেশের নিট মুনাফা আনুপাতিক হারে বাড়েনি। চলতি প্রথমার্ধে কর পরিশোধের পর কোম্পানিটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯৪৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। অবশ্য চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির নিট মুনাফা ২০১২ হিসাব বছরের পুরো বছরের মুনাফার চেয়ে ১৪১ শতাংশ বেশি। ২০১২ সালে বিএটি বাংলাদেশের নিট মুনাফা ছিল ৩৯৪ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত