শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই সমঝোতায় আসতে পারে

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩, ০১:৫৬ এএম

আগামীকাল বৃহস্পতিবারের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে জনমনে অস্বস্তি আছে, আশঙ্কা নেই। আশঙ্কা আছে সম্ভবত মিডিয়াতে, তেমনই দেখা যাচ্ছে। সাধারণ জনগণ হাট-বাজারে ঘুরেফিরে বসে যেসব আড্ডা-গল্প কথাবার্তা বলছে, তাতে তো আশঙ্কা মনে হয় না। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও সর্বশেষ এক দফা পাল্টাপাল্টি ঘোষণায় এক ধরনের অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হতে পারেÑ অনেকের মনে এমন দুশ্চিন্তা থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার সেটা মনে করছেন না।

অভিমত জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেছেন, হ্যাঁ, একটা অস্বস্তি আছে। বিশেষ করে যে জনদুর্ভোগ তৈরি হয় সে ব্যাপারে সাধারণের মধ্যে বিরক্তি আছে।

তিনি বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর কী হবে, জানি না। কিন্তু এ বিষয়টা আমার কাছে মনে হয়, আশঙ্কা বলে যে কথাটা হচ্ছে সেটা এখনো হয়নি। সেদিক থেকে আমার কাছে মনে হয় যে, লোকে চায় উভয়পক্ষ সংযত আচরণ করুক। বিশৃঙ্খলা না করে যার যা বক্তব্য আছে বলুক। এটা যাতে কোনোভাবে সহিংস ঘটনার দিকে না যায়।’

অধ্যাপক শান্তনু বলেন, ‘আমি এটা বুঝি যে, নির্বাচনের এই শেষ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা, রাজনৈতিক কথার লড়াই এগুলো আগের তুলনায় বাড়বে। সরকারি দল ও বিরোধী, উভয় দলই মরিয়া চেষ্টা করবে “আমি শক্তিধর” এটা প্রমাণের। এর মধ্যে আমি কোনোরকম সমস্যা খুঁজে পাই না। সুতরাং এখন দুপক্ষ দৃশ্যত বিপরীত অবস্থানে আছে। লোকেরা যদি মুখে না বলে মাইকে জোর দিয়ে কথাটা বলে বা সাংবাদিকদের বলে, আমি সত্যি কোনো অসুবিধা দেখি না। শুধুই সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোন দল কতটা অনড় থাকবে সেটা বুঝতে আরও কিছু সময় লাগবে।’

শান্তনু বলেন, ‘মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা ১৯৯০ বা ১৯৯১ সাল থেকে। সেই সময় থেকে আমরা যদি আমাদের নিজেদের পত্রিকাগুলো স্ক্যান করি; অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট লাগবে না। শুধু আমাদের পত্রিকাগুলো যদি দেখি তাহলে আমরা বুঝব যে আমাদের কোন জায়গায় সমস্যা আছে। এ সমস্যাগুলো হচ্ছে রেজিম-নিউট্রাল প্রবলেম। অর্থাৎ এটা এমন নয় যে, কোনো সরকারের আমলে ছিল না এবং কোনো সরকারের আমলে আছে। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, এগুলোতে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া দরকার। বিরোধী দলেরা শুধু তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলবে এটা ঠিক নয়। তাদের উচিত হচ্ছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, জাতিগত সংখ্যালঘু বা করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে নিয়ে কথা বলা। ঠিক তেমনিভাবে তাদেরও যে সাংবিধানিক অধিকার আছে তা নিয়ে তারা দাবি করবে এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ সমস্যাগুলো সব আমলের সমস্যা। এটা আমাদের রাষ্ট্রের সমস্যা। তবে এ সমস্যাগুলো নিয়ে যদি দ্বিমত করে ফেলে, তাহলে তো হয় না। সমস্যা আছে, সেটা কীভাবে ঠিকঠাক করা যায় তা চিন্তা করতে হবে। এ জায়গা থেকে আমি মনে করি বিরোধী দলের যে অভিযোগটা সেটা গুরুত্বের সঙ্গে নেব কিন্তু একই সঙ্গে ওনারাও যাতে স্মরণ করে যে, ওনারা অতীতে কী করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আসলে দায় নেই, এটা দায়িত্ব। সরকারি দল সরকার পরিচালনা করে ফলে দায়িত্বটা তাদেরই বেশি। বিশেষ করে, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোকে সংবিধানসম্মতভাবে পরিচালিত হতে দেওয়া। সরকারের ওপর তো দায়িত্বটা বেশি আসবেই। একই সঙ্গে আমরা যদি আবার সংবিধান দেখি, গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে বিষয়টা সেখানে বিরোধী দল কিন্তু সারাক্ষণ চিৎকার-চেঁচামেচি করবে এবং বিঘ্ন সৃষ্টি করবে, এটা কাক্সিক্ষত হবে না। এগুলোতে আমার মনে হয় যে আরও চিন্তাভাবনার জায়গা আছে।’

অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, দৃশ্যত যে ঝামেলা দেখা যাচ্ছে এটা শেষ কথা নয়। আমার ধারণা নির্বাচনের আগে দুই দলের মধ্যে একটা ডিল (সমঝোতা) হতে পারে। কারণ নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয়, অর্থাৎ কেউ যদি কারও নির্বাচন বানচাল করতে চায়, সেটা যে দলই হোক। যে ক্ষতি বা এর যে ভার হবে সেটা বহন করার ক্ষমতা থাকবে না এবং ২০২৩ সালে এসে দেশবাসী এ ক্ষতিটা সামাল দেওয়ার মানসিকতার মধ্যে নেই। সুতরাং তাদের মধ্যে এরকম একটা গুরুত্ব দেখা যেতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত