রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সব ধরনের নিয়োগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শতরূপা তালুকদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর ফলে রাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে আর কোনো বাধা রইল না।
স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন শতরূপা তালুকদার। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিজ্ঞপ্তিটি আপনারা পেয়েছেন সেটি আমারই স্বাক্ষর করা এবং এটি অথেনটিক (যথাযথ) অর্ডার।’
তবে রাবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেছেন, অফিশিয়ালি (দাপ্তরিকভাবে) তারা এখনো (গতকাল) প্রজ্ঞাপনটি হাতে পাননি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সমুন্নত রাখার স্বার্থে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর জারি করা নিয়োগ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও নীতিমালা অনুসরণ করে সুষ্ঠুভাবে সব নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুমতি দেওয়া হলো।
শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী মিলে রাবিতে বর্তমানে দেড় হাজারের বেশি পদ শূন্য আছে। এর মধ্যে শিক্ষক প্রায় ৫০০, কর্মকর্তা ২৫০ এবং কর্মচারী ৯০০।
এর আগে, রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা শিথিল ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজের মেয়ে ও জামাতাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২০ সালের ১০ ও ১৩ ডিসেম্বর আলাদা ১২টি নোটিসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর তৎকালীন উপাচার্যকে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৫ শিথিল করে পরিবর্তিত নীতিমালা-২০১৭ অনুযায়ী উপাচার্য এম আবদুস সোবহান তার মেয়ে সানজানা সোবহানকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে এবং জামাতা এ টি এম শাহেদ পারভেজকে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেন। উপাচার্যের এমন স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের কারণে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে এবং শিক্ষা ও গবেষণার মান নিম্নগামী করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
ওই সময় আরেকটি চিঠিতে শিক্ষক নিয়োগে নতুন নীতিমালা তৈরি করতে বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫১৬তম সিন্ডিকেট সভায় নতুন নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করে বর্তমান প্রশাসন।
